ঢাকার শ্যামলীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন নানা বয়সি মানুষ। কেউ দীর্ঘদিনের মানসিক সমস্যায় ভুগছেন, কেউ দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পাওয়ার পর বদলে গেছেন, আবার কারও আচরণগত পরিবর্তনে বিপাকে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
গেল মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ থেকে সুমন মিয়াকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন বাবা আব্দুল জলিল।
আলাপচারিতায় তিনি জানালেন, ২২ বছর আগে বেবি ট্যাক্সি (অটোরিকশা) দুর্ঘটনায় ছেলের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। এরপর তার স্মৃতিশক্তি ও বোধশক্তিতে বড় পরিবর্তন আসে। দীর্ঘদিন বাড়িতে থাকার পর একসময় তিনি নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর কয়েক মাস আগে তাকে পাওয়া যায়।
বাবা আব্দুল জলিল বলছিলেন, “দুর্ঘটনার পর কবিরাজি চিকিৎসা করিয়েছিলাম। কিন্তু ছেলের স্মৃতিশক্তি চলে যায়। সেভাবে কথাও বলে না। বিভিন্ন কারণে আমাদের ওপর মারধরও করত।
“২০০৪ সালের পর থেকে বাসায় শিকল দিয়ে আটকে রাখতাম। পরে ২০১৪ সালে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর কয়েক মাস আগে (ঢাকার) সাতরাস্তার মোড়ে তাকে পেয়েছি।”
ছেলের বর্তমান অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে জলিল বললেন, “অবস্থা অনেক খারাপ ছিল। গোসল করিয়ে কয়েক দিন আগে হাসপাতালের খোঁজ পেয়ে এখানে নিয়ে এসেছি। আজ ভর্তি করানোর কথা। দেখি চিকিৎসার পর কী হয়।”