এ বছরও আলুতে কপাল পুড়ছে কৃষক-ব্যবসায়ীদের
উত্তরাঞ্চলের অন্যতম দ্বিতীয় বৃহত্তম আলু উৎপাদনকারী জেলা জয়পুরহাট। এ বছর সেই আলুতেই কপাল পুড়ছে এ জেলার প্রান্তিক কৃষক ও ব্যবসায়ীদের। আলুর বাজারে দরপতনের কারণে অনেক কৃষকেরই এখন পরিবার নিয়ে পথে বসার উপক্রম। বিশেষ করে যারা অন্যের জমি বর্গা নিয়ে আলু চাষ করেছেন। ব্যবসায়ী ও মৌসুমী আলুর পাইকারি বিক্রেতারাও পড়েছেন বিপাকে। বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠান ও ধারদেনা করে হিমাগারে আলু মজুত করেছিলেন বেশি দামে বিক্রির আশায়। আলুর দাম কমে যাওয়ায় পুঁজি হারানোর শঙ্কায় আছেন তারা।
শুধু কৃষক, কিংবা ব্যবসায়ী নয় শঙ্কায় আছেন হিমাগারের মালিক কর্তৃপক্ষরাও। সময়মতো হিমাগার থেকে আলু খালাস না হলে লোকসানে পড়বেন তারা।
কৃষক ও হিমাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, এ বছর আলু উৎপাদন থেকে শুরু করে হিমাগারে সংরক্ষণ; সব মিলে প্রতি বস্তা আলুতে খরচ হয়েছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে হিমাগারের আলু বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে থেকে ৮৫০ টাকা পর্যন্ত। এতে করে প্রতি বস্তা আলুতে লোকসান গুনতে হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত।
প্রান্তিক কৃষক সবুজের ভাষ্য, এ বছর ৫০ শতকে প্রতি বিঘা জমিতে আলুর বীজ, সার, কীটনাশক, শ্রমিক ও সেচ দেওয়াসহ সব মিলিয়ে কৃষকের খরচ হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। আর প্রতি বিঘা জমিতে আলু উত্তোলনের সময় বিক্রি করেছিলেন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এতে করে ভরা মৌসুমেই আলুতে লোকসান হয়েছে কৃষকের ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।