নাভি পিল্লাই: গণহত্যার বিচার ও দায়মুক্তির রাজনীতি
যুদ্ধ থেমে গেলেই কি শান্তি ফিরে আসে? কখনো যুদ্ধ শেষ হয় যুদ্ধক্ষেত্রে, অথচ ক্ষমতার রাজনীতি তার পরিণতি বাঁচিয়ে রাখে ইতিহাসের বিকৃতিতে, অপরাধীর দায়মুক্তিতে এবং ভুক্তভোগীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া নীরবতায়। শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি যাচাই করতে তাই একটি প্রশ্ন জরুরি: সত্য বললে এখনো কার বিপদ হয়?
যার পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে, যার শরীর ও জীবন নির্যাতনের সাক্ষ্য বহন করছে, অথচ অপরাধী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক মিত্রতার সুরক্ষায় নিরাপদ—তার কাছে আমরা কোন শান্তির কথা বলছি? বন্দুকের শব্দ না শোনাকে? নাকি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা না বলার বাধ্যবাধকতাকে? অপরাধীর নিরাপত্তা নিশ্চিত, কিন্তু সাক্ষীর নিরাপত্তা অনিশ্চিত হলে সংঘর্ষ থামলেও অন্যায়ের কর্তৃত্ব শেষ হয় না।
নাভি পিল্লাইয়ের ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার এই প্রশ্নগুলো সামনে এনেছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার এই আইনজ্ঞের দীর্ঘ কর্মজীবন মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত। নোবেল কমিটি বিশেষভাবে তুলে ধরেছে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে তার ভূমিকা। এই স্বীকৃতির রাজনৈতিক তাৎপর্য হলো, শান্তির আলোচনায় ক্ষমতার জবাবদিহিকে কেন্দ্রে আনা।