চিঠির যুগ থেকে ডিজিটাল যোগাযোগ

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪১

একটি পুরোনো কাঠের বাক্স খুললে কখনো কখনো এমন কিছু চিঠি পাওয়া যায়, যেগুলোর কাগজ হলদে হয়ে গেছে, কালির দাগ ফিকে হয়ে এসেছে, খামের কোনা ভেঙে গেছে। তবু চিঠিগুলো খুললে মনে হয়, সময় যেন হঠাৎ পেছনে ফিরে গেছে। কয়েকটি বাক্যের মধ্যে তখনকার একটি মানুষ, একটি পরিবার, একটি সম্পর্ক কিংবা একটি অপেক্ষার সম্পূর্ণ ইতিহাস জেগে ওঠে।


একসময় চিঠির জন্য অপেক্ষা ছিল জীবনেরই অংশ। ডাকপিয়নের সাইকেলের ঘণ্টা শোনা মানেই বুকের ভেতর কেমন একটা আলোড়ন। দূর শহরে থাকা সন্তান লিখেছে কি না, বিদেশে থাকা প্রিয়জনের খবর এসেছে কি না, চাকরির নিয়োগপত্র কিংবা পরীক্ষার ফল—সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল ডাকঘর ও ডাকপিয়ন। একটি খাম ছিল দূরত্বের ওপারে মানুষের কাছে পৌঁছানোর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সেতু।


আজ সেই পৃথিবী প্রায় বদলে গেছে। হাতে লেখা চিঠির জায়গা নিয়েছে মোবাইল ফোনের ক্ষুদ্র পর্দা। ডাকপিয়নের অপেক্ষার বদলে আমরা অপেক্ষা করি ‘মেসেজ’, ‘ই-মেইল’ কিংবা ‘নোটিফিকেশন’-এর জন্য। কয়েক সেকেন্ডে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছবি, কণ্ঠ, ভিডিও ও নথি পৌঁছে যায়।


৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস। ১৮৭৪ সালের ৯ অক্টোবর সুইজারল্যান্ডের বার্নে ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করেই দিনটি পালিত হয়। পরে জাতিসংঘের স্বীকৃতিতে বিশ্ব ডাক দিবস আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ডাকসেবার গুরুত্ব তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষে পরিণত হয়।


কিন্তু আজ প্রশ্নটি অন্য জায়গায়। ডিজিটাল যোগাযোগের বিস্ফোরণের যুগে ডাক বিভাগের প্রয়োজন কোথায়?


প্রশ্নটি সহজ, উত্তরটি নয়।


কারণ ডাকব্যবস্থা কেবল চিঠি বহন করার ব্যবস্থা নয়। এটি একটি দেশের সামাজিক, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর অংশ। পার্সেল, সরকারি নথি, আদালতের কাগজপত্র, আর্থিক সেবা, ই-কমার্সের পণ্য, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র—সবকিছুর সঙ্গে আধুনিক ডাকব্যবস্থার সম্পর্ক রয়েছে। ফলে চিঠি কমেছে বলে ডাক বিভাগের প্রয়োজন শেষ হয়ে যায়নি; বরং তার কাজের ধরন বদলে গেছে।


বিশ্বের উন্নত ডাকব্যবস্থাগুলো এই পরিবর্তন অনেক আগেই বুঝেছে। ইউরোপ, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া কিংবা সিঙ্গাপুরের মতো দেশে ডাক প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু চিঠি বহনকারী সংস্থা হিসেবে নিজেদের আটকে রাখেনি। পার্সেল ও লজিস্টিকস, আর্থিক সেবা, ডিজিটাল পরিচয়, সরকারি সেবা এবং ই-কমার্সের সঙ্গে তারা নিজেদের যুক্ত করেছে।


কারণ প্রযুক্তি ডাকব্যবস্থার শত্রু নয়; ভুলভাবে দেখলে শত্রু মনে হতে পারে। আসলে প্রযুক্তি ডাকব্যবস্থার পুরোনো কাজকে সংকুচিত করেছে, কিন্তু নতুন কাজের দরজা খুলেছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও