অস্ট্রেলিয়ায় ডেঙ্গুর টিকা, বাংলাদেশ কবে পাবে

প্রথম আলো কাউসার খান প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪০

১ অক্টোবর বিকেলে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে মারা গেল ৮ বছর ১০ মাস বয়সী এক ফুটফুটে শিশু, আদরের রুমাইসা। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত সে। জ্বর এসেছিল ২৯ সেপ্টেম্বর। কোনো তীব্র পূর্বলক্ষণ বোঝার আগেই মাত্র তিন দিনের মাথায় সব শেষ হয়ে গেল।


১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্তও মেয়েটি স্বাভাবিক খাওয়াদাওয়া আর খেলাধুলা করেছে। শরীরে কোনো র‍্যাশ বা দৃশ্যমান রক্তক্ষরণ ছিল না। রক্তে প্লাটিলেটও ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার। দুপুরে হঠাৎ কাঁপুনি ও খিঁচুনির পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (পিআইসিইউ) নেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হয়ে সব ওলটপালট হয়ে যায়। বাবা নিজে একজন নিবিড় পরিচর্যা বিশেষজ্ঞ হয়েও ডেঙ্গুর এই আকস্মিক ছোবল আটকানোর কোনো সুযোগ পাননি।


ঢাকা থেকে যখন এই দুঃসংবাদ এল, জানতে পারলাম তাঁরা আমাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ পারিবারিক বন্ধু। আমার স্ত্রী অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসক; বাংলাদেশে তাঁরা একসঙ্গে পড়েছেন, কাজ করেছেন। মেয়েটির বাবা-মা দুজনই চিকিৎসক—বাবা আইসিইউ বিশেষজ্ঞ, মা চক্ষুবিশেষজ্ঞ। সবচেয়ে বড় বেদনার জায়গা হলো, আমাদের ঘরেও একই বয়সী একটি কন্যাসন্তান আছে।


তাই এই মৃত্যুতে আমরা এতটাই স্তব্ধ হয়ে পড়েছিলাম যে তাঁদের সঙ্গে কথা বলার মতো সাহসও পাচ্ছিলাম না। চোখের সামনে কেবল ভেসে উঠছিল এক অসহায় মা–বাবার মুখ, যাঁরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হয়েও নিজের সন্তানকে বাঁচাতে পারলেন না।


ঠিক এই শোকের মধ্যেই সিডনিতে এল এক আশার খবর। অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে জাপানি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান তাকেদার তৈরি কার্যকর ডেঙ্গু টিকা ‘কিউডেঙ্গা’ (Qdenga)। চার বছর বা তার বেশি বয়সী যে কেউ পারিবারিক চিকিৎসকের (জিপি) ব্যবস্থাপত্র নিয়ে দুই ডোজে এই টিকা নিতে পারছেন। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব ভূখণ্ডে ডেঙ্গুর কোনো স্থানীয় বিস্তার নেই; দেশটির বার্ষিক শনাক্ত হওয়া প্রায় আড়াই হাজার রোগীর প্রায় শতভাগই বিদেশ ভ্রমণ থেকে ফেরা।


তবু নাগরিকদের আগাম সুরক্ষায় অস্ট্রেলিয়া সরকার এই টিকার অনুমোদন দিয়েছে। এখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে; সামনে লম্বা ছুটিতে দেশে যাওয়ার আগে অনেকেই সন্তানদের এই টিকা দিয়ে নেবেন বলে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


এই খবর অস্ট্রেলিয়ার কাছে ছোট, বাংলাদেশের কাছে বড়


অস্ট্রেলিয়ায় এটি খুব বড় খবর নয়। সরকারি তথ্যে গত বছরের মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে দেশটিতে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল ২ হাজার ৬৪১ জনের, যার ৯৪ শতাংশের বেশি বিদেশে গিয়ে সংক্রমিত হয়ে ফিরেছিলেন। অর্থাৎ এখানে ডেঙ্গু মূলত ভ্রমণকারীর রোগ। কেউ ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত বা বাংলাদেশ ঘুরে এলেন, সঙ্গে ডেঙ্গুও নিয়ে এলেন। টিকাটি এখানে সরকারি ভর্তুকি তালিকায় নেই, ব্যক্তিগত খরচে কিনতে হয় এবং এর দামও বেশ চড়া।


অথচ যেখানে ডেঙ্গুতে প্রতিদিন মানুষ মরছে, সেখানে এই টিকা নেই। আর যেখানে রোগটির ঝুঁকি নেই বললেই চলে, সেখানে টিকা মজুত আছে। এই বৈপরীত্যই আমাকে লেখাটি লিখতে তাগিদ দিয়েছে।


বাংলাদেশের হিসাব


চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। সেপ্টেম্বর মাসেই মারা গেছেন বহু মানুষ, আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে হাজারো। এর পেছনে রয়েছে একেকটি পরিবারের নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার গল্প। ৯ বছরের আরফা জন্মের তিন দিনের মাথায় মাকে হারিয়েছিল, এবার সে বাবাকেও হারাল। রুমাইসার পাঁচ বছর বয়সী ছোট বোন ফারজিন এখনো বুঝতেই পারছে না তার আপু কোথায় হারিয়ে গেল।


কমিটি আছে, কাজ নেই


মশা মারার মূল দায়িত্ব স্থানীয় সরকার বিভাগের। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইউনিয়ন থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রায় ৪৮ হাজার কমিটি থাকার কথা থাকলেও জাতীয় কমিটি আর সিটি করপোরেশনের গুটিকয়েক ছাড়া বাকিগুলো কার্যত নিষ্ক্রিয়। বহু উপজেলায় বা পৌরসভায় ওয়ার্ড কমিটিই নেই। কাগজে ব্যবস্থা আছে, কিন্তু মাঠে নেই। আর এই প্রশাসনিক ব্যর্থতার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে শিশুদের।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও