চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি অপারেটর: চুক্তিতে কী আছে, সুবিধা বা ঝুঁকি কোথায়
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় কনটেইনার টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এ–সংক্রান্ত চুক্তি হয়। এ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের তিনটি টার্মিনালে বিনিয়োগ ও পরিচালনার জন্য বিদেশি অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হলো। আওয়ামী লীগ, অন্তর্বর্তী ও বর্তমান বিএনপি—তিন সরকারের আমলে এসব চুক্তি হয়েছে।
সরকার কেন বিদেশি অপারেটর নিয়োগ দিচ্ছে, আন্দোলনকারীদের আপত্তি কোথায়, চুক্তিতে বন্দরের আয় কত হবে এবং সেবার মান কতটা বাড়বে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন এই প্রতিবেদক। টার্মিনাল ইজারার নথি, বন্দর ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য, বিশ্বব্যাংকের প্রকাশনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রশ্ন–উত্তরে বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো।
প্রশ্ন: চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ইজারা নিয়ে কেন এত আলোচনা?
উত্তর: বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের বড় অংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয়। এনবিআরের হিসাবে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের ৮৫ শতাংশ এই বন্দর দিয়ে পরিবহন হয়েছে। সমুদ্রপথে কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৯৯ শতাংশও হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। বাকি ১ শতাংশ হয় মোংলা দিয়ে।
রপ্তানি পণ্য, শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন পণ্য কনটেইনারে পরিবহন করা হয়। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের সেবার মান ও ব্যয়ের সঙ্গে দেশের আমদানি–রপ্তানি বাণিজ্যের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
দেশের তিন সমুদ্রবন্দরের মধ্যে চট্টগ্রাম সবচেয়ে পুরোনো। এর প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু ১৮৮৮ সালে। মোংলা চালু হয় ১৯৫০ সালে। পায়রা বন্দরে পণ্য পরিবহন শুরু হয় ২০১৬ সালে। তবে পায়রায় এখনো কনটেইনার পরিবহন চালু হয়নি। মোংলায় সীমিত পরিসরে কনটেইনার জাহাজ ভেড়ানোর সুবিধা রয়েছে।
চট্টগ্রামে কনটেইনার পরিবহন শুরু হয় ১৯৭৭ সালের মার্চে। শিপিংবিষয়ক সংবাদমাধ্যম লয়েডস লিস্টের ক্রমতালিকায় কনটেইনার পরিবহনে বন্দরের অবস্থান ৬৮তম।