এল নিনিওর প্রভাবে বাংলাদেশে কী হতে পারে, কী প্রস্তুতি দরকার
কয়েক দশকের মধ্যে এবারের এল নিনিও সবচেয়ে শক্তিশালী রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। জলবায়ুজনিত এ ঘটনার প্রভাব থাকবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
বাংলাদেশে এর প্রভাব কতটা পড়তে পারে, আর সেজন্য কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া দরকার—সে সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, এবারের এল নিনিও দেড়শ বছরের মধ্যে অন্যতম ‘সুপার এল নিনিও’ হতে যাচ্ছে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পর্যন্ত বাড়তে পারে।
১৯৯৭-৯৮ ও ২০১৫-১৬ সালে যে এল নিনিও দেখা গিয়েছিল, সেসবে তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৭ থেকে ২.৭৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। আর সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনিও হয়েছিল ১৮৭৭-৭৮ সালে; তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩.৫৮ ডিগ্রি বেশি ছিল। এবার তার চাইতেও তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন গবেষকরা।
এল নিনিও হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের পূর্ব ও মধ্যভাগে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার জলবায়ুজনিত ঘটনা। এটি সাধারণত প্রতি ২ থেকে ৭ বছর পরপর ঘটে এবং কয়েক মাস থেকে এক বছরের বেশি স্থায়ী হতে পারে।
এর ফলে কেবল প্রশান্ত মহাসাগর নয়, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বৃষ্টি, তাপমাত্রা, খরা, বন্যা ও ঝড়ের ধরনেও পরিবর্তন ঘটতে পারে।