মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ভলিউম ও রেকর্ডপত্র আগুনে পুড়ে ছাই হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর মূল্যবান ২৪.৯৬ শতাংশ বাণিজ্যিক জমি বেহাত হয়েছে।
জাল দলিল তৈরি করে সরকারের শতকোটি টাকার জমি নিজেদের নামে অবৈধভাবে দখল করে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। জালিয়াতির মাধ্যমে মোট ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৩৮ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির চিত্র উন্মোচিত হওয়ার পর মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন সংস্থাটির জনসংযোগ দপ্তর। দুদকের উপ-পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে বাগেরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ২৭ জুন পটিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১৯৭০ সালের সব সরকারি ভলিউম, স্টক বুক ও রেকর্ডপত্র পুড়ে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। এই ঐতিহাসিক অগ্নিকাণ্ড ও নথিপত্রের শূন্যতাকে হাতিয়ার বানান জালিয়াতি চক্রের মূল হোতা ফাতেমা বেগম ও তার সহযোগীরা। তারা চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানার গোসাইলডাঙ্গা মৌজার ২৪.৯৬ শতক সরকারি জমির মালিকানা দাবি করে পটিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের একটি জাল দলিল তৈরি হয়। পোড়া রেকর্ডের সুযোগ নিয়েই সরকারি জমি নিজেদের নামে দাবি করার ভিত্তি তৈরি করা হয়।