রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ: দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সমীকরণ ও বৈশ্বিক বাস্তবতা

বিডি নিউজ ২৪ ড. মঞ্জুরে খোদা প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫০

রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে যুদ্ধ ও কূটনীতি যেন এক সঙ্গে চলছে। একদিকে ইউক্রেইনের শহর, জ্বালানি ও শিল্প অবকাঠামোর ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়াচ্ছে রাশিয়া; অন্যদিকে রাশিয়ার তেল শোধনাগার, সামরিক স্থাপনা ও অন্যান্য কৌশলগত অবকাঠামোতে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেইন। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘাতের তীব্রতা যেমন বাড়ছে, তেমনি কূটনৈতিক পরিসরেও নানা উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।


এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর নতুন অর্থনৈতিক চাপ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে এবং ইউক্রেইনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পথ প্রসারিত করছে। যুক্তরাজ্যও অস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কিইভকে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। আবার ওয়াশিংটন মস্কো ও কিইভকে আলোচনার টেবিলে ফেরানোর চেষ্টা করছে। প্রশ্ন হলো, যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধির কৌশল কি শেষ পর্যন্ত আলোচনার পথ তৈরি করবে, নাকি অস্ত্র ও নিষেধাজ্ঞার নতুন প্রতিযোগিতা যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করবে?


রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা যুদ্ধের অর্থনৈতিক ব্যাপ্তি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হলে তার প্রভাব কেবল মস্কো-ওয়াশিংটন সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; চীন ও ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপরও এর ধাক্কা গিয়ে পড়বে।


তবে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা আর যুদ্ধ থামানো এক কথা নয়। গত কয়েক বছরে রাশিয়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বিকল্প বাজার, নতুন বাণিজ্যপথ ও নিজস্ব আর্থিক ব্যবস্থাপনা তৈরি করেছে। ফলে নতুন নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করছে চীন, ভারত ও তুরস্কের মতো রাশিয়ার বড় বাণিজ্যিক মিত্ররা মার্কিন চাপ কতখানি মানবে তার ওপর। এসব নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার যুদ্ধ ব্যয় বাড়াতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে মস্কোর কৌশলে পরিবর্তন আনতে পারে। তবে স্বল্পমেয়াদে এমনটি ঘটবেই, ওই নিশ্চয়তা নেই।


ইউক্রেইনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগও যুদ্ধের ভবিষ্যৎ সমীকরণে বড় ভূমিকা রাখছে। প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স বা প্রযুক্তিগত সহায়তা ইউক্রেইনের প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে লাইসেন্স পাওয়া আর দ্রুত বিপুল পরিমাণ উৎপাদন এক বিষয় নয়। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রযুক্তি, সরবরাহ ব্যবস্থা ও দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে সময়ের প্রয়োজন।


তাই তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে এর প্রভাব সামান্য মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর গুরুত্ব অনেক। ইউক্রেইন নিজের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে পারলে বিদেশি অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমাতে পারবে। পাশাপাশি পশ্চিমা প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সহায়তা বহাল থাকলে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার শক্তিও বাড়বে।


এক্ষেত্রে পশ্চিমা সহায়তায় ইউক্রেইন যদি প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে, তবে রাশিয়াও দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধক্ষেত্রে আরও কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অর্থাৎ, একই পদক্ষেপ একদিকে আলোচনার চাপ তৈরি করতে পারে, অন্যদিকে আবার যুদ্ধের সময়সীমাও বাড়িয়ে দিতে পারে।


রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ আজ কেবল ভূখণ্ড দখলের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন মূলত উৎপাদন সক্ষমতা, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় রূপ নিয়েছে। কে কত কম খরচে বেশি ড্রোন বানাতে পারে, কে কত দ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আবার দাঁড় করাতে পারে, কার দূরপাল্লার অস্ত্র উৎপাদন বেশি এবং কে কত দিন ধরে যুদ্ধের অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলে নিতে পারে, এখন এসব প্রশ্নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


রাশিয়া কম খরচের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেইনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর অনবরত চাপ সৃষ্টি করছে। জবাবে ইউক্রেইন হামলা চালাচ্ছে রাশিয়ার ভেতরে থাকা তেল শোধনাগার ও সামরিক স্থাপনায়। ফলে যুদ্ধের গতিপথ কেবল সামনের সারির সামরিক লড়াইয়ের ওপর নির্ভর করছে না, বরং দুই দেশের শিল্প ও প্রযুক্তিগত ক্ষমতার ওপরও ঝুলছে।


পরিস্থিতি যেমনই হোক, কূটনৈতিক তৎপরতা অবশ্য থেমে নেই। রাশিয়া-ইউক্রেইন আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কথা তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও নানা শান্তি-প্রস্তাব নিয়ে কথা বলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে আলোচনার দরজা খোলা থাকা আর সত্যি সত্যি কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো এক জিনিস নয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও