তথ্য-উপাত্ত থেকে দেখা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় গ্লোবাল সাউথের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে। একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের তুলনায় গ্লোবাল সাউথের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদন প্রায় ৫ দশমিক ৪ গুণ বেড়েছে;
গ্লোবাল সাউথ বিশ্বের কোনো আলাদা অঞ্চল নয়। বস্তুত এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে ব্যবহৃত একটি পরিভাষা, যা মূলত আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলে অবস্থিত উন্নয়নশীল, স্বল্প শিল্পোন্নত এবং ঐতিহাসিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত দেশগুলোকে বোঝাতে ব্যবহার হয়।
সম্প্রতি ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলন থেকে বিশ্বব্যাপী আবারো আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে গ্লোবাল সাউথ। গ্লোবাল সাউথের ধারণা স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার ভূরাজনৈতিক শ্রেণীবিভাগ থেকে বিবর্তিত হয়ে বর্তমানে এমন একটি কাঠামোয় পরিণত হয়েছে, যা আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সেসব দেশকে বোঝায়, যাদের ইতিহাসের বিরাট অংশজুড়ে রয়েছে ঔপনিবেশিক শাসন, কাঠামোগত অসমতা এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রান্তিকীকরণের মতো বিষয়। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশেরও বেশি এ দেশগুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও পরিবেশগত এজেন্ডা নির্ধারণে তারা ক্রমে প্রভাবশালী হয়ে উঠছে বলেই মনে হচ্ছে।