দেশে গতকাল এলপি গ্যাসের দাম ১২ কেজির দাম ২৫২ টাকা বেড়েছে। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে পণ্যটির দাম ও জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় এ দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
দেশের খাদ্যনিরাপত্তার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য চাল ও গম। বর্তমানে এ দুই খাদ্যশস্যের সরকারি মজুদ রয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টন। এ মজুদ খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলার পাশাপাশি বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে বড় সহায়তা দেয়। কিন্তু বৈশ্বিক সংকট কিংবা আকস্মিক ধাক্কা সামাল দিতে দেশের জ্বালানি খাতে জরুরি মজুদ এবং দরকারি অবকাঠামো গড়ে তোলা যায়নি। বিশেষত আমদানিনির্ভর তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ক্ষেত্রে এ ধরনের মজুদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ‘বাফার’ সুবিধা না থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার ঝুঁকি বহন করতে হচ্ছে দেশের অর্থনীতি ও ভোক্তাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি পণ্য যেকোনো দেশের কৌশলগত মজুদ। অনেক জ্বালানি পণ্যের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববাজারের ওপর নির্ভরশীল। ফলে দেশে মজুদ অবকাঠামো অত্যন্ত জরুরি। অতীতের বিভিন্ন সরকার এলএনজি ও এলপিজি স্টোরেজ সক্ষমতা গড়ে তোলার কথা বললেও আদতে তা করতে পারেনি। যে কারণে বিশ্ববাজারের চলমান সংকট মোকাবেলা করতে হচ্ছে দেশের বাজারে পণ্যের দাম বাড়িয়ে। এলএনজি ও এলপিজির ক্ষেত্রে দেড়-দুই মাসের মজুদ থাকলে সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির মতো পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ ছিল।