দেশের ২২টি ব্যাংক লোকসানে রয়েছে। এগুলোর মোট লোকসানের পরিমাণ ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা। তারল্যসংকট সামাল দিতে চলতি বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২টি ব্যাংককে জরুরি সহায়তা হিসেবে ৮৪ হাজার ৯৪৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (ব্যাংক) বর্তমান অবস্থা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনে গতকাল রোববার এই সংসদীয় কমিটির বৈঠক হয়।
সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান (ব্যাংক) খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন কমিটির সদস্যরা। একই সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চ, ২০২৬ ভিত্তিতে ব্যাংক খাতের পরিচালন মুনাফার পরিমাণ ৭৮৯ কোটি টাকা হলেও নিট ক্ষতি ৮ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। ব্যাংক খাতের সম্পদ ও মূলধনের বিপরীতে আয়ও নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে। মার্চ, ২০২৬ ভিত্তিতে ব্যাংক খাতের সম্পদের ওপর উপার্জন হার ঋণাত্মক ১.০৩ শতাংশ এবং মূলধনের ওপর উপার্জন হার (ROE) ঋণাত্মক ৪৪.২২ শতাংশ নির্ণীত হয়েছে।
লোকসানে থাকা ২২টি ব্যাংকের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক হলো—জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংক। দুটি বিশেষায়িত ব্যাংক হলো—বিকেবি ও রাকাব। ১৫টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক হলো—এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স, এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, আইসিবি ইসলামিক, আইএফআইসি, ইসলামী, মেঘনা, ন্যাশনাল, গ্লোবাল ইসলামী, পদ্মা, সীমান্ত, সোশ্যাল ইসলামী, দি প্রিমিয়ার ও ইউনিয়ন এবং একটি বিদেশি ব্যাংক—ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এই ২২ ব্যাংকের পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা।