বিশ্ববিদ্যালয়, নাকি সনদের কারখানা?

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৮

বিশ্ববিদ্যালয় শব্দটির সঙ্গে আমাদের কল্পনায় যে ছবিটি ভেসে ওঠে, সেখানে থাকে একটি গ্রন্থাগার, গবেষণাগার, শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর প্রাণবন্ত বিতর্ক, মুক্ত চিন্তার পরিবেশ এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টির চেষ্টা। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি ভবন নয়, শুধু পরীক্ষার কেন্দ্রও নয়। এটি এমন একটি জায়গা, যেখানে একজন তরুণ শুধু একটি ডিগ্রি অর্জন করেন না; তিনি প্রশ্ন করতে শেখেন, যুক্তি দিয়ে ভাবতে শেখেন, ভুল থেকে শিখতে শেখেন এবং সমাজকে নতুন চোখে দেখতে শেখেন।


কিন্তু সাম্প্রতিক একটি সংবাদ সেই স্বপ্নের জায়গাটিকে অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। দেশে এখন ১১৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে ৫৪টি নিজস্ব ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অথচ ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নেই, ৮৯টিতে সহ-উপাচার্য নেই এবং ৪০টিতে নেই কোষাধ্যক্ষ। এমনকি ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ—এই তিন শীর্ষ পদই শূন্য।


প্রশ্নটি তাই শুধু ‘কতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাস আছে’—এখানে থেমে থাকতে পারে না। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, আমরা আসলে কতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করেছি?


ইট-পাথরের ভবন, ঝকঝকে ফটক, আধুনিক শ্রেণিকক্ষ কিংবা বড় জমি থাকলেই একটি প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের আসল শক্তি তার শিক্ষক, গবেষণা, পাঠদানের মান, একাডেমিক নেতৃত্ব, গ্রন্থাগার, গবেষণাগার, শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ এবং সুশাসনে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিদদের বক্তব্যেও একই বিষয় উঠে এসেছে।


দুঃখজনক হলো, আমাদের উচ্চশিক্ষার বিস্তার অনেক ক্ষেত্রে সংখ্যার হিসাবকে গুণগত মানের বিকল্প বানিয়ে ফেলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ছে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে, ডিগ্রিধারীর সংখ্যা বাড়ছে—কিন্তু আমরা কি একই গতিতে জ্ঞান বাড়াতে পারছি?


এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের দিকে তাকাতে হয়। বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা কমানো। ১৯৯২ সালে এ খাতে আইন প্রণয়ন করা হয়। পরে ২০১০ সালে নতুন আইন করা হয়। সাময়িক অনুমোদনের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাস, গবেষণা বাজেটসহ বিভিন্ন শর্ত পূরণের মাধ্যমে স্থায়ী সনদের যোগ্য হওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।


অর্থাৎ শুরুতে ধারণাটি ছিল স্পষ্ট—বিশ্ববিদ্যালয় হবে মানসম্মত উচ্চশিক্ষার বিকল্প ক্ষেত্র। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই দর্শনের সঙ্গে ব্যবসায়িক স্বার্থ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সনদনির্ভরতার প্রবণতা কোথাও কোথাও জড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০০১ সালের পর রাজনৈতিক বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের প্রবণতা বাড়ে এবং ব্যবসায়িক মনোভাব ও রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রতিষ্ঠিত কিছু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণার চেয়ে ‘সনদ বিক্রি’র দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও