বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা এবং আস্থার সংকট

যুগান্তর সাজ্জাদ সাব্বির প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৩

কুমিল্লায় ১৩ বছরের অপ্রতীমকে হত্যার পর তার মা নাহিদা বেগমের মুখ থেকে ভয়াবহ হতাশার সুরই ভেসে এসেছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি ফাঁসি চাই না, দেশটা তলিয়ে যাক।’ গত মে মাসে পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যার পর তার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আপনাদের বিচার করার কোনো রেকর্ড নেই।’ আর শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বিচার নিয়ে তার পরিবারের আইনজীবী আদালতে জানিয়েছেন, হাদি জীবিত অবস্থাতেই নিজের হত্যার পর ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষার কথা বলতেন।


এই বাক্যগুলোর মধ্যে মানুষের একটি সাধারণ অনুভূতি ও ক্ষোভ আছে। মানুষ অপরাধের শিকার হওয়ার পর রাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা ও বিচার চায়। যখন সেই জায়গায় তার মনে হয় অপরাধী ধরা পড়লেও শেষ পর্যন্ত বিচার হবে না, মামলা বছরের পর বছর চলবে, সাক্ষী হারিয়ে যাবে, তদন্ত আটকে থাকবে অথবা আসামি জামিনে বেরিয়ে যাবে, তখন রাষ্ট্রের আইনি কাঠামোর ওপর মানুষের বিশ্বাস দুর্বল হয়।


বাংলাদেশে এ অবিশ্বাসের পেছনে বাস্তব অভিজ্ঞতাও আছে অহরহ। সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ১৪ বছর পরও তদন্ত শেষ হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা ১২৫ বার বাড়ানো হয়েছিল। ২০২৬ সালের এপ্রিলেও রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা আদালতে জানান, তদন্তকারী টাস্কফোর্স এখনো গুরুত্বপূর্ণ নথি ও প্রমাণের ঘাটতিতে রয়েছে।


সোহাগী জাহান তনু হত্যার দশ বছর পূর্ণ হয়েছে। মামলায় ৭৮টি শুনানির পরও গ্রেফতার বা বিচার এগোয়নি। তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী, সাগর রুনি, তনু ও মসারাত জাহান মুনিয়া হত্যার মতো দীর্ঘদিন অমীমাংসিত আলোচিত মামলাগুলো নিয়েও ২০২৬ সালে নাগরিক সমাবেশে বক্তারা বিচারহীনতার সংস্কৃতির কথা বলেছেন। অন্যদিকে আদালতে মামলা পৌঁছালেই যে বিচার নিশ্চিত হয়, সেই ধারণাটিও বাস্তবতার সঙ্গে সব সময় মেলে না। ২০২৬ সালের বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ গবেষণায় গবেষণায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় দণ্ডের হার মাত্র ৩ শতাংশ এবং প্রায় ৭০ শতাংশ মামলায় খালাসের তথ্য উঠে এসেছে।


মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রেও ব্যবধানটি বড়। অধিকারের তথ্যের ভিত্তিতে ২০১০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ৩ হাজার ৮৭৬টি মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে, অর্থাৎ বছরে গড়ে প্রায় ২৪২টি। একই সময়ে কার্যকর হয়েছে ৪৭টি মৃত্যুদণ্ডের রায়। অর্থাৎ বিচারিক আদালতে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের ৯৮ শতাংশের বেশি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। উচ্চ আদালতে বেশিরভাগ মামলায় মৃত্যুদণ্ড কমে যাওয়া, পরিবর্তন বা বাতিল হওয়ার কারণেই এমন চিত্র দেখা গেছে। এখানে উল্লেখ্য, এ ৪৭ জনের মধ্যে শেখ মুজিবর রহমানের হত্যাকাণ্ড ও একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের অপরাধে ১২ জন সাজাপ্রাপ্তও আছে।


বিপরীতে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে বাংলাদেশে গড়ে প্রতি বছর ৩ হাজার থেকে ৪ হাজারটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং এ সময়ে মোট খুনের সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। এর সঙ্গে আছে রাষ্ট্রপতির ক্ষমার প্রশ্ন। ২০০১ সাল থেকে ২০১৩ সালের সংসদীয় তথ্য অনুযায়ী ৩০ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাজা রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমায় মওকুফ করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে হাইকোর্ট ১৯৯১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির ক্ষমা, সাজা কমানো বা স্থগিত করার পূর্ণ নথি প্রকাশ না করার বিষয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।


আবার জামিনও বিচারব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ। গ্রেফতার মানেই দোষী নয়। আদালত প্রমাণের ভিত্তিতে জামিন দিতে পারেন। কিন্তু তদন্ত দুর্বল হলে, বছরের পর বছর চার্জশিট না হলে, সাক্ষী হাজির না হলে অথবা জামিনের পর মামলার বাদীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠলে মানুষের চোখে আইনের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও