পিন্টুর বোন, নিউটনের স্ত্রী—ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির রাজনৈতিক উত্থানের গল্প
স্বামী খুন হওয়ার পর তাঁর ওয়ার্ডেই নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ ওরফে মিষ্টি। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাধারণ ওয়ার্ডের সেই উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে দায়িত্ব নেন কমিশনার হিসেবে। এর আগে কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতি ও ছাত্র সংসদের নেতৃত্বে ছিলেন। পরে মহানগর বিএনপির দায়িত্ব পান। চলতি বছরের মে মাসে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে সংসদে আসেন তিনি।
মিষ্টির স্বামী সাইদুর রহমান (নিউটন) ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকার ওয়ার্ড কমিশনার। বড় ভাই নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু ছাত্রদলের সভাপতি থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। বিএনপির রাজনীতিতে পরিচিত এই দুই নেতার সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের পাশাপাশি মিষ্টির নিজের রাজনৈতিক পথচলায় রয়েছে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ, দলীয় দায়িত্ব পালন এবং মামলা মোকাবিলার ইতিহাস।
সম্প্রতি মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় মিষ্টির নাম সামনে এসেছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা বরাদ্দ চেয়ে দুই দশক আগে তাঁর স্বাক্ষরে করা আবেদন এবং হামলায় অভিযুক্ত কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তিনি হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এসব অভিযোগের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এরপর তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করেছে সংসদ সচিবালয়।
ছাত্রদল থেকে ওয়ার্ডের নির্বাচনে
মিষ্টির জন্ম ১৯৭৪ সালের ১৫ জানুয়ারি। শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক, পেশায় ব্যবসায়ী। বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে পড়ার সময় ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। পরে ওই কলেজের ছাত্র সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক বা এজিএস নির্বাচিত হন। বড় ভাই পিন্টুও তখন ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
কলেজের রাজনীতি থেকে মিষ্টি পরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আসেন। ২০০২ সালে স্বামী নিউটন খুন হওয়ার পর অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন তিনি। সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে নয়, সাধারণ ওয়ার্ডের ভোটারদের সরাসরি ভোটে কমিশনার নির্বাচিত হয়েছিলেন মিষ্টি।
পরবর্তী সময়েও সাধারণ ওয়ার্ডের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। ২০২০ সালের সিটি নির্বাচনের আগে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তিনি তৃতীয়বারের মতো সাধারণ কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন। স্থানীয় সরকারে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সে সময় এলাকার কয়েকটি সমস্যা সমাধানের দাবিও করেছিলেন।