প্লাস্টিকে ডুবছে নদী

ডেইলি স্টার প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৯

বাংলায় মুঘল শাসন সুসংহত করেছিলেন প্রথম মুঘল সুবেদার ইসলাম খান চিশতি। বুড়িগঙ্গার চাঁদনী ঘাটে তার নৌবহর নোঙর করে ১৬১০ সালে। ধরুন, সেই সময় যদি প্লাস্টিকের বোতল থাকত এবং ইসলাম খানের লোকজন সেগুলো নদীতে ফেলতো, তাহলে ৪১৬ বছর পর আজও সেগুলো অক্ষত অবস্থায় বুড়িগঙ্গাতেই পাওয়া যেত।


এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডো) ২০২২ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়।


প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে সর্বশেষ যেসব গবেষণা প্রতিবেদন পাওয়া গেছে, তার মধ্যে এটি অন্যতম।


বাংলাদেশে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার শুরু হয় ১৯৮০-এর দশকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এরপর থেকে প্লাস্টিকের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।


এসব প্লাস্টিকের বড় একটি অংশ দেশের নদীব্যবস্থায় গিয়ে জমা হচ্ছে, নৌপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, জলজ প্রাণীর জীবন বিপন্ন করছে এবং খাদ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।


দেশে ব্যবহার শুরুর পর ৫০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যেই ঢাকার প্রাণপ্রবাহ বুড়িগঙ্গা নদী ইতোমধ্যে প্লাস্টিক বর্জ্যে বিপন্ন প্রায়।


স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বুড়িগঙ্গায় মাটির ১৫ ফুট গভীরেও আমরা প্লাস্টিক বর্জ্য পেয়েছি। কয়েকটির গায়ের লেবেল পরীক্ষা করে দেখেছি, সেগুলো ১৫ থেকে ১৭ বছর আগে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু এখনো সেগুলো দেখতে নতুনের মতো।’


২০২৩ সালে তারা এই গবেষণা শুরু করেছেন এবং এখনো চলছে।


বোতল ও খাদ্যের প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত পলিমার পলিইথিলিন টেরেফথ্যালেট (পিইটি) ক্ষয় হতে আনুমানিক ৪৫০ বছর লাগে। এই সময়ের মধ্যে এটি নীরবে পরিবেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে দেয় এবং খাদ্যদূষণ ঘটায়।


দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন শীর্ষক ২০২৫ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বঙ্গোপসাগরের মাছের চেয়ে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে ধরা মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত উৎপাদন, পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা ও জনসচেতনতার অভাব এবং বিদ্যমান আইন প্রয়োগে ব্যর্থতার কারণে দেশের নদ-নদী ও জনস্বাস্থ্যের জন্য এই হুমকি তৈরি হয়েছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও