You have reached your daily news limit

Please log in to continue


সংকট মোকাবিলায় জাগতিক কৃচ্ছ্রসাধন জরুরি

জার্মান দার্শনিক-সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্সওয়েবার তার বহুল আলোচিত গ্রন্থ, ‘The Protestant Ethics and the Spirit of Capitalism’-এ দেখিয়েছেন কীভাবে মধ্যযুগে প্রটেস্ট্যান্ট ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ (ethics) তদানীন্তন ইউরোপীয় সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধনে সক্ষম হয়েছিল। রেনেসাঁ এবং রিফরমেশন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ইউরোপে শুরু হয় এক নবযুগের; জীবনের সর্বক্ষেত্রে এর প্রতিফলন দেখা যায়। এর মধ্যে তখন প্রটেস্ট্যান্ট ধর্মাবলম্বীরা যেসব মূল্যবোধ ধারণ করেন, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল জাগতিক কৃচ্ছ সাধন (worldly asceticism) এবং কর্মের আদর্শ (doctrine of karma). অর্থাৎ এ জীবনে মানুষ যা কিছু উপার্জন করবে, তার সবটাই সে ব্যয় করবে না, ভোগ করবে না। তার আয়ের কিছু অংশ সে সঞ্চয় করে রাখবে। তা করতে হলে ব্যক্তি মানুষকে কৃচ্ছ্রসাধন করতে হবে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়-ইউরোপবাসী তা-ই করেছিল। তাদের জীবন ধারণা ছিল-কাজ করতে হবে (karma), উপার্জন করতে হবে এবং কৃচ্ছ সাধনের মাধ্যমে সঞ্চয় করতে হবে। এ ধরনের জীবন আচরণের মাধ্যমে তদানীন্তন ইউরোপীয় সমাজে পুঁজিবাদ বিকাশের পরিবেশ সৃষ্টি হয়; শুরু হয় ইউরোপীয় সমাজে মৌলিক পরিবর্তন। ইউরোপ জন্ম দেয় নতুন সভ্যতার।

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ নানা সংকট অতিক্রম করছে। সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে। পাশাপাশি আমরা যদি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কৃচ্ছ্রসাধনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারি, তাহলে সংকট উত্তরণ অনেকটাই সহজ হবে বলে আমি মনে করি।

বর্তমানে বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করায় বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল এবং সর্বোতভাবে জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশগুলো মারাত্মক সমস্যায় পতিত হয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিবছর ৭০ লাখ থেকে ৭৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল ব্যবহার করে। এ তেলের প্রায় সবটুকুই আমদানির মাধ্যমে মেটাতে হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ডিজেল। প্রতিবছর যে জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়, তার ৬৫ শতাংশই ডিজেল, যার পরিমাণ ৪৫ থেকে ৫০ লাখ মেট্রিক টন।

জ্বালানি তেলের জোগান দিতে গিয়ে সরকারকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত মিলিয়ে সরকারকে প্রতিবছর ৩০ হাজার কোটি টাকা থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। এ প্রেক্ষাপটে অনেকটা বাধ্য হয়েই সরকারকে অভ্যন্তরীণ বাজারে বারবার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করতে হচ্ছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অর্থই হচ্ছে জনঅসন্তোষ সৃষ্টি হওয়া। কারণ এর অভিঘাত সরাসরি জনগণের ওপরে পড়ে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মোট তিনবার জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। ২০ মে সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্য লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে। গত এপ্রিলে প্রথম দফায় প্রতি লিটার জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ানো হয়েছিল। সেই সময় প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ১৫ টাকা, কেরোসিনের মূল্য ১৮ টাকা এবং পেট্রোলের মূল্য ১৯ টাকা এবং অকটেনের মূল্য ২০ টাকা বাড়ানো হয়। দ্বিতীয় দফা গত জুনে ডিজেলের মূল্য অপরিবর্তিত রেখে প্রতি লিটার কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের মূল্য লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তৃতীয় দফায় সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্য লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাজারে সব ধরনের পণ্যের মূল্য আরেক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটলে এর প্রভাব অনিবার্যভাবে বাংলাদেশের ওপর পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তারপরও প্রতিবারই জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকালে দেশব্যাপী সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়। দেখে দেয় অস্থিরতা। কারণ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ার অর্থই হচ্ছে দ্রব্যমূল বেড়ে যাওয়া, পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পাওয়া এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যাওয়া। আমাদের দেশে একশ্রেণির ব্যবসায়ী আছেন, যারা অজুহাত পেলেই দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দেন। পরিবহণ মালিকরা আগের চেয়ে বেশি ভাড়া নিয়ে থাকেন। সরকার পরিবহণ ভাড়া নির্ধারণ করে দিলেও বাস্তব ক্ষেত্রে মানা হয় না। জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বিরাজমান উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। কৃষি খাতে উৎপাদন ব্যয় আগের তুলনায় বেড়ে যাবে। আগামী মৌসুমে কৃষি ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বারবার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে জাতীয় জীবনে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।

তারপরও বলতে হবে, এ মুহূর্তে সরকারের কাছে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কোনো উপযুক্ত বিকল্প ছিল না। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ছাড়া কোনো উৎপাদন কার্যক্রম চালানো প্রায় অসম্ভব। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির অর্থই হচ্ছে কলকারখানায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া। এ অবস্থায় দেশের জনগণেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। সরকার শখের বশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করেনি। এটা করা হয়েছে পরিস্থিতির চাপে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে। বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের সংরক্ষণাগারের ধারণক্ষমতা ১৫ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন। এই তেল দিয়ে দেশের জ্বালানি তেলের মাত্র ২ মাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব। সরকার জ্বালানি তেলের রিজার্ভারের ধারণক্ষমতা এমনভাবে বাড়াতে চায়, যাতে দেশের তিন মাসের জ্বালানি তেলের চাহিদা মেটানো যায়। চীন জ্বালানি তেলের যে মজুত গড়ে তুলেছে, তা দিয়ে তাদের ৬ মাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব। আমাদেরও চীনের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে জ্বালানি তেলের রিজার্ভারের ধারণক্ষমতা এমনভাবে বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে অন্তত দেশের ৬ মাসের জ্বালানি চাহিদা মেটানো যায়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন