'কেউ মামলা করেনি' - অজুহাতে পুলিশ কি দায়িত্ব এড়াতে পারে?
ঢাকার মিরপুর এলাকায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হতে দেখা যাচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি থেকে স্থানীয় থানার দূরত্ব এক কিলোমিটারেরও কম। তারপরও পুলিশ কেন ঘটনাস্থলে গেল না এবং হামলা ঠেকাতে পারলো না, সে প্রশ্ন সামনে আসছে।
অন্যদিকে, স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, সালমান মুক্তাদির 'ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করলেও থানায় মামলা কেন দায়ের করেননি?'
সে পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অনেকেই পাল্টা প্রশ্ন রাখেন যে, থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ না দিলে বা মামলা না করলে পুলিশ কি অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে না?
যদিও পরবর্তীতে ভুক্তভোগী মি. মুক্তাদিরের বক্তব্য থেকে জানা যায়, হামলার ঘটনার পর শনিবার রাতেই তিনি ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করতে গিয়েছিলেন। পরে মামলা নিতে দেরি হওয়ায় একপর্যায়ে 'ক্লান্ত হয়ে' বাসায় ফিরে যান।
পরদিন সকালে ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিও'র ভিডিও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এরপর রোববার দুপুরে মামলা নেয় পুলিশ।
মামলা নিতে গড়িমসি করার এমন অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। বাংলাদেশের এর আগেও বিভিন্ন সময় এ ধরনের অভিযোগ সামনে আসতে দেখা গেছে।
মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পরও অনেক সময় 'ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি বা কেউ মামলা করেনি' -এমন অজুহাত দেখিয়ে পুলিশকে নিষ্ক্রিয় থাকতে দেখা যায়।
- ট্যাগ:
- বাংলাদেশ
- ভাঙচুর
- হামলা
- পুলিশের ভূমিকা