পর্যটন অর্থনীতি প্রবৃদ্ধিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ঢাকা পোষ্ট ড. সন্তোষ কুমার দেব প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১১

বিশ্ব অর্থনীতিতে পর্যটন একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাত হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে জিডিপি, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, বিনিয়োগ এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিল-এর ইকোনমিক ইমপ্যাক্ট রিসার্স অনুযায়ী, পর্যটন ও ভ্রমণের অর্থনৈতিক অবদান পরিমাপের ক্ষেত্রে শুধু পর্যটকদের সরাসরি ব্যয় নয়; বরং পর্যটন-সম্পর্কিত প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ এবং প্রণোদিত অর্থনৈতিক প্রভাবও বিবেচনা করে পর্যটনের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রভাব চিত্র পাওয়া যায়।


২০১৯ সাল বৈশ্বিক পর্যটনের মহামারি পূর্ব শক্তিশালী অবস্থানের ভিত্তিবর্ষ হিসেবে বিবেচিত। ওই সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবদান পর্যটন খাতে প্রায় ৯.৬ ট্রিলিয়ন ডলার এবং প্রায় ৩৩৪ মিলিয়ন কর্মসংস্থান হয়েছিল। কিন্তু ২০২০ সালে করোনা মহামারি, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, সীমান্ত বন্ধ এবং লকডাউনের ফলে পর্যটন খাতে ব্যাপক ধ্বস নেমে আসে।


ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিল-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে পর্যটনের বৈশ্বিক জিডিপি অবদান প্রায় ৪.৭ ট্রিলিয়ন ডলার এ নেমে আসে এবং কর্মসংস্থানও ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছিল।


২০২১ সাল থেকে পর্যটন খাত ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হওয়া শুরু করে। ২০২১ সালে বৈশ্বিক পর্যটনে জিডিপির অবদান প্রায় ২৪.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং ২০২২ সালে আরও ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭.৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। ২০২০ সালে প্রায় ৭০ মিলিয়নের বেশি কর্মসংস্থান হারানোর পর ২০২১ সালে প্রায় ১১ মিলিয়ন এবং ২০২২ সালে আরও ২১.৬ মিলিয়ন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় ও দ্রুত পুনরুদ্ধার শুরু হয়।


২০২৩ সালে বৈশ্বিক পর্যটন খাতের অবদান প্রায় ৯.৯ ট্রিলিয়ন ডলার পৌঁছে এবং বিশ্ব জিডিপিতে প্রায় ৯.১ শতাংশ এবং প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন কর্মসংস্থান সুযোগ হয় পর্যটন খাতে। ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটক ব্যয় এবং অভ্যন্তরীণ পর্যটন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যা মহামারি পরবর্তী পর্যটন পুনরুদ্ধার সুস্পষ্ট হয়।


২০২৪ সালে পর্যটন খাত পুনরুদ্ধারের নতুন অর্থনৈতিক রেকর্ড তৈরি করে। ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিল সূত্র অনুযায়ী ২০২৪ সালে পর্যটনের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবদান প্রায় ১১.১ ট্রিলিয়ন ডলার এবং প্রায় ৩৪৮ মিলিয়ন কর্মসংস্থান সুযোগ হয়।


২০২৫ সালে ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিল-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক জিডিপি অবদান ১১.৬ ট্রিলিয়ন ডলার যা বৈশ্বিক অর্থনীতির ৯.৮ শতাংশ। একই বছরে পর্যটন খাত বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩৬৬ মিলিয়ন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ২০২৫ সালে প্রায় ১.৫৪ বিলিয়ন আন্তর্জাতিক পর্যটক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে, যা পূর্বের সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক ভ্রমণ চাহিদার শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন নির্দেশ করে।


বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পর্যটন খাতের গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে পর্যটন খাতের অবদান প্রায় ৩ শতাংশ। সরকার এই অবদানকে আগামী দিনে ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে পর্যটন খাতকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আঞ্চলিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।


২০২৬ সালের জন্য ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিল-এর সর্বশেষ ইকোনমিক ইমপ্যাক্ট রিসার্স-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, পর্যটন খাতের বিশ্ব জিডিপিতে অবদান প্রায় ১২ ট্রিলিয়ন ডলার এবং প্রায় ৩৭৬ মিলিয়ন কর্মসংস্থান এর সংযোগ তৈরি হবে, অর্থাৎ বিশ্বব্যাপী প্রায় প্রতি নয়টি (০৯) কর্মসংস্থানের একটি (০১) এই খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও