সম্পদ রক্ষায় দেউলিয়া নাকি দায়মুক্তি
কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কখন দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়? কী কারণে দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়? একজন ঋণখেলাপি বা দেনাদার ব্যক্তি কি চাইলেই নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করতে পারেন? দেউলিয়া ঘোষণা করা হলে পাওনাদার অথবা দেনাদারের লাভ-ক্ষতি কী? দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন কোথায়, কীভাবে করতে হয়—আসুন, তা জেনে নিই।
দেউলিয়া আইন, ১৯৯৭-এর ধারা ১৩ অনুযায়ী, যখন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তার ঋণ পরিশোধের সর্বাত্মক সক্ষমতা হারায় এবং আদালত বিচারিক অনুসন্ধান শেষে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঋণ শোধে অক্ষম ঘোষণা করেন, তখন সেই আদেশকে ‘দেউলিয়া ঘোষণা’ (Adjudication of Bankruptcy) বলা হয়।
আইনগতভাবে যখন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তার ঋণ পরিশোধের সর্বাত্মক সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন অথবা একজন ঋণখেলাপি বা দেনাদার ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান গোপনে তার সম্পদ অন্যত্র সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন। এছাড়া ঋণখেলাপি ব্যক্তি ঋণ বা দায় না মিটিয়ে পালানোর পাঁয়তারা করেন। এ ধরনের পরিস্থিতি হলে পাওনাদার বা পাওনাদার প্রতিষ্ঠান জেলা জজ আদালতে দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন করতে পারেন। আবার ঋণখেলাপি ব্যক্তি যদি পাওনা পরিশোধ করার মতো সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন, তবে সেই ব্যক্তি নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণার জন্য আবেদন করতে পারেন।
এখন প্রশ্ন হলো, আবেদন করা হলেই কি আদালত কাউকে দেউলিয়া ঘোষণা করবেন, না আদালত দেউলিয়া আইনের ধারা ১৩ অনুযায়ী বিচারিক অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেবেন? এরপর এ-সংক্রান্ত ‘ঘোষণাদেশ’ (Order of Adjudication) প্রদান করেন। যা আদালত কর্তৃক আবেদনকারীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঋণ শোধে অক্ষম বলে ঘোষণা করা, অর্থাৎ দেনাদারকে দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়।
দেউলিয়া আবেদন কোথায়, কীভাবে করা হয়? দেউলিয়া ঘোষণার আদেশের বিরুদ্ধে কি উচ্চ আদালতে যাওয়া যায়?
একজন ব্যক্তি নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণার জন্য দেউলিয়া আইনের ৪ ও ৬ ধারা অনুসরণ করে জেলা জজ আদালতে আবেদন বা মোকদ্দমা করবেন। এই আইনের ১১ ধারা অনুযায়ী, একজন দেনাদার নিজেই নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা চেয়ে আবেদন করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে দেনাদারের মোট ঋণের পরিমাণ ন্যূনতম ২০,০০০ (বিশ হাজার) টাকা হলে এবং তিনি তা শোধে অপারগ হলে নিজে এই আবেদন করতে পারবেন। দেনাদার ব্যক্তি যদি এক বা একাধিক পাওনাদারের হাত থেকে বাঁচার জন্য পালানোর চেষ্টা করেন, পাওনাদারদের বঞ্চিত করতে গোপনে দেশ অথবা সম্পত্তি হস্তান্তর করেন, অথবা দেনাদার নিজেকে অক্ষম বলে ঋণ পরিশোধ না করার লিখিত ঘোষণা দেন, তখন পাওনাদার ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই আইনের ১২ ধারার সাহায্যে দেনাদারকে দেউলিয়া ঘোষণা করার জন্য আবেদন করতে পারেন।
একজন দেনাদার বা পাওনাদার ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাইলেই কি আদালত দেউলিয়া ঘোষণা করেন? আদালত এ ধরনের আবেদন পাওয়ার পর শুনানি গ্রহণ করবেন। আদালত বিচারিক অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেবেন। যদি বিচারিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে আবেদনের সঠিকতা পাওয়া যায়, তখন আদালত দেউলিয়া ঘোষণার আদেশ দেবেন।
- ট্যাগ:
- মতামত
- রক্ষা
- সম্পদ
- দায়মুক্তি
- দেউলিয়া ঘোষণা