সিসিটিভির বাজার চীননির্ভর, দেশেও উৎপাদন হচ্ছে
অপরাধ শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, প্রতিষ্ঠান ও ঘরের নিরাপত্তা- নাগরিক জীবনের নানান ক্ষেত্রে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবহার এখন ব্যাপক। একসময় শুধু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় ব্যবহৃত হলেও সময়ের সঙ্গে শহর ছাড়িয়ে গ্রামেও পৌঁছে গেছে এই প্রযুক্তি। নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ব্যবস্থাপনা, যানবাহন নজরদারি, অগ্নিকাণ্ড ও গ্যাস লিকেজ শনাক্তকরণসহ বিভিন্ন কাজেও যুক্ত হচ্ছে ক্যামেরা ও সেন্সরভিত্তিক প্রযুক্তি।
বাংলাদেশে সিসিটিভি ক্যামেরার বাজার এখনো প্রায় পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের হিসাবে, দেশে এই ক্যামেরার বাজারের আকার ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। তবে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে অ্যাসেম্বলিং ও উৎপাদনে আসতে শুরু করেছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। চীনা প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের সহায়তায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানও নিরাপত্তা সরঞ্জাম তৈরিতে এগিয়ে আসছে।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ২০০০ সালের শুরুর দিকে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবহার শুরু হয়। ২০১২ সালের পর এর ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০১৫ সালের দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন বহুতল ভবনে সিসিটিভি বসানোর অনুরোধ জানানোর পর এর ব্যবহার আরও বাড়ে। এরপর শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে প্রযুক্তিটি।
এককভাবে শুধু সিসিটিভি ক্যামেরা আমদানির পরিমাণের স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ২০২৬ সালের মে মাসের আমদানি তথ্য অনুযায়ী, ক্যামেরাসংশ্লিষ্ট ছয়টি এইচএস কোডে প্রায় ১১ হাজার ২৯২ কেজি বিভিন্ন ধরনের ক্যামেরা আমদানি হয়েছে। এপ্রিল মাসে পাঁচটি এইচএস কোডে প্রায় ৭ হাজার ৬৭২ কেজি বিভিন্ন ধরনের ক্যামেরা আমদানি করা হয়েছে।