সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যতের লক্ষ্যে ফার্মাসিস্টদের ক্ষমতায়ন ও বাস্তবতা

ঢাকা পোষ্ট ড. মো. আজিজুর রহমান প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৯

২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস। আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশন (International Pharmaceutical Federation বা FIP) এর উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী ফার্মাসিস্টরা দিবসটি খুব গুরুত্ব সহকারে পালন করছে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ফার্মেসি বিভাগসমূহ, ফার্মাসিস্টদের বিভিন্ন সংগঠন ও ওষুধ কোম্পানিগুলো বিভিন্ন পরিসরে এ অনুষ্ঠানটি পালন করছে।


২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য হলো, ‘Empowering pharmacists for healthier futures’ অর্থাৎ স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যতের লক্ষ্যে ফার্মাসিস্টদের ক্ষমতায়ন জরুরি।


আমাদের দেশে ফার্মাসিস্টরা যেহেতু সরাসরি চিকিৎসা সেবায় জড়িত নন বা তাদের জড়িত করা হয়নি, সাধারণ মানুষের কাছে এ প্রতিপাদ্যটির মূলভাব উপলব্ধি করা কঠিন। কারণ, বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ মূলত ফার্মাসিস্ট হিসেবে ওষুধের দোকানদার অথবা সরকারি হাসপাতালে ডিসপেনসারিতে ওষুধ বিতরণে নিয়োজিত ব্যক্তিদের চেনেন।


অবশ্য তাদের কোনো দোষ নেই। কারণ, বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের তিন মাসের ফার্মেসি সার্টিফিকেট কোর্স পরীক্ষায় পাশ করা ‘সি’ ক্যাটেগরিতে নিবন্ধিত ব্যক্তিরাও নিজেকে ফার্মাসিস্ট বলে পরিচয় দেন, যদিও তারা ২০২৩ সালের ‘ওষুধ ও কসমেটিকস আইন’ অনুযায়ী ‘ফার্মেসি টেকনিশিয়ান’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার কথা।


ওষুধ ও কসমেটিকস আইন ২০২৩ এ বলা আছে, “একজন ফার্মাসিস্ট হলেন বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল কর্তৃক ‘এ’ ক্যাটাগরিতে নিবন্ধিত ব্যক্তি”।  বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের ‘এ’ ক্যাটাগরিতে নিবন্ধিত হতে একজন ফার্মাসিস্টকে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার বছরের বিফার্ম (অনার্স) বা পাঁচ বছরের বিফার্ম (প্রফেশনাল) ডিগ্রি অর্জন করতে হয়। সেই আইন অনুযায়ী ফার্মেসি কাউন্সিলের ‘বি’ ক্যাটেগরিতে নিবন্ধিত ব্যক্তিরা ‘ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট’ হিসেবে পরিচিত হবেন।  


আমাদের দেশে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট যারা শুধুমাত্র ‘ফার্মাসিস্ট’ পদবি ব্যবহারের আইনগত অধিকার রাখেন তাদের কার্যক্রম এখনো জনগণের চোখের আড়ালে। সব উন্নত ও অসংখ্য উন্নয়নশীল দেশে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টরা সরাসরি যেখানে হাসপাতালে, ক্লিনিকে ও ফার্মেসিতে রোগীর সেবায় সরাসরি জড়িত, সেখানে আমাদের দেশের ৮০-৯০ ভাগ গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানিতে ওষুধ উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ, মান নিশ্চিতকরণ, ফর্মুলেশন, মার্কেটিং, রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি কাজে জড়িত।


ফার্মাসিস্ট নিয়ে ভুল ধারণা শুধু সাধারণ জনগণের মধ্যে সীমাবদ্ধ তাও নয়। চিকিৎসা সেবায় ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা কী, কীভাবে ফার্মাসিস্ট-চিকিৎসক-নার্স মিলে একটি চমৎকার স্বাস্থ্যব্যবস্থা কাজ করে তা নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যেও পরিষ্কার ধারণা নেই।


এখনও দেশের সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বিশেষায়িত হাসপাতালে ৯ম গ্রেডের ‘ফার্মাসিস্ট’ অর্থাৎ গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট পদের বিপরীতে ১১তম গ্রেডে ‘ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট’ নিয়োগ দেওয়া হয় যা ওষুধ ও কসমেটিকস আইন ২০২৩-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।


যেহেতু, দেশে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী ফার্মাসিস্টরা ১১ তম গ্রেডে চাকরি শুরু করেন এবং তাদের কার্যাবলীর মধ্যে হাসপাতালের ডিসপেনসারির জন্য ওষুধ ক্রয় ও বিতরণ কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং সাধারণ জনগণ যেহেতু তাদের ফার্মাসিস্ট নামে চেনে, তাই তাদের মধ্যে প্রকৃত ফার্মাসিস্ট কারা এবং ফার্মাসিস্টদের কাজের পরিধি সম্পর্কে ভুল ধারণা স্থায়ী হয়ে গেছে।


পাশাপাশি, সি ক্যাটেগরির নিবন্ধিত ওষুধের দোকানদারও বড় দাগে ফার্মাসিস্ট বলে পরিচিত হওয়ার কারণে দেশে ‘ফার্মাসিস্ট’ পেশাটি একটি উন্নতমানের পেশা হিসেবে চিকিৎসা সেবায় গুরুত্ব হারিয়েছে।


ফার্মাসিস্ট নিয়ে ভুল ধারণা শুধু সাধারণ জনগণের মধ্যে সীমাবদ্ধ তাও নয়। চিকিৎসা সেবায় ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা কী, কীভাবে ফার্মাসিস্ট-চিকিৎসক-নার্স মিলে একটি চমৎকার স্বাস্থ্যব্যবস্থা কাজ করে তা নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যেও পরিষ্কার ধারণা নেই। কারণ চিকিৎসকরাও তাদের কর্মক্ষেত্রে শুধুমাত্র ‘বি’ ক্যাটেগরির ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের সঙ্গে পরিচিত হন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও