বসার ঘর পরিষ্কারে মানসিক চাপ থাকবে দূরে
সারাদিনের ব্যস্ততার পর বাড়ির যে জায়গাতে এসে একটু স্বস্তি মেলে, সেটিই বসার ঘর। একসঙ্গে গল্প করা, বই পড়া, টেলিভিশন দেখা, চায়ের আয়োজন করা বা দিনের ক্লান্তি কাটিয়ে কিছুক্ষণ নিশ্চুপ বসে থাকার জন্য বসার ঘরই আরামদায়ক।
আবার অনেকের দিনের শুরুটাও হয় এই বসার ঘর থেকেই। সকালে চায়ের কাপ হাতে কেউ খবর পড়েন, কেউ পরিবারের সঙ্গে গল্প করেন, আবার কেউ দিনের কাজের পরিকল্পনা করেন।
আর দিনের শেষে এই ঘরই বেশি এলোমেলো হয়। তখন বিশ্রাম নেওয়ার বদলে ঘরের পরিবেশের কারণে মনের ওপর তৈরি হতে পারে বাড়তি চাপ।
সোফার পাশে পড়ে থাকা কাপ, মেঝেতে পড়ে থাকা জুতা, ছড়িয়ে থাকা বই, শিশুর খেলনা বা কাজের প্রয়োজনীয় জিনিস অশান্ত পরিবেশের কথাই মনে করিয়ে দিতে থাকে। ফলে শরীর ঘরে থাকলেও মন পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে পারে না।
ফ্যাশন ও ইন্টেরিয়র ডিজাইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রেডিয়েন্ট ইনস্টিটিউট অব ডিজাইন-এর প্রতিষ্ঠাতা ও অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিনের মতে, “ঘর গুছিয়ে রাখলে চারপাশের অপ্রয়োজনীয় চাপ কমে এবং মনের ওপরও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।”
ব্যবহৃত কাপ-প্লেট ফেলে না রাখা
বসার ঘরের টেবিলে বিকেলের চায়ের কাপ বা রাতের খাবারের প্লেট রেখে দেওয়াটা ঘরে পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর করে তুলতে পারে।
তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে এগুলো রান্নাঘরের নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে আসা ভালো অভ্যাস।
গুলশান নাসরিনের মতে, “শান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচটি ইন্দ্রিয়ই কাজ করে। এর মধ্যে গন্ধও গুরুত্বপূর্ণ। দিনের পুরানো চা, কফি বা খাবারের গন্ধ ঘরে থেকে গেলে, আরামদায়ক পরিবেশ তৈরির জন্য সহায়ক না।”
এছাড়া টেবিলে পড়ে থাকা ব্যবহৃত বাসন শুধু ঘরকেই অপরিষ্কার দেখায় না, মনের মধ্যেও ফেলে রাখা কাজের কথা মনে করিয়ে দেয়। আবার ব্যবহৃত বাসন সরিয়ে রাখলে একই সঙ্গে ঘরের দৃশ্যমান অগোছালোভাব এবং পরে পরিষ্কার করতে হবে এমন মানসিক চিন্তা দুটিই কমে।
ফেলে রাখা কাজ বসার ঘরে না রাখা
বসার ঘর যদি দিনের ফেলে রাখা কাজের স্থানে পরিণত হয়, তাহলে সেখানে বসেও মনকে বিশ্রাম দেওয়া কঠিন হয়ে যায় ও পরিবেশ অশান্ত হইয়ে ওঠে।
বাজারের ব্যাগ, অফিসের কাগজপত্র, হিসাবের খাতা, কাপড় বা পরদিনের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস যদি সোফা বা টেবিলের ওপর পড়ে থাকে, সেগুলো চোখে পড়লেই আবার কাজের কথা ভাবা শুরু হয়।
“তবে ঘর একেবারে নিখুঁত হওয়া প্রয়োজন নেই। শুধু সে দিনের ফেলে রাখা কাজের জিনিসগুলো সরিয়ে রাখলেই অনেকটা স্বস্তি পাওয়া সম্ভব”, বলেন গুলশান নাসরিন।
তাই বসার ঘরের টেবিলটি যতটা সম্ভব খালি রাখা যেতে পারে। প্রয়োজনীয় জিনিস নির্দিষ্ট জায়গায় রাখলে পরদিন সকালে ঘরও গোছানো পাওয়া যাবে।