এমপির সঙ্গে সম্পর্ক, তরুণীর মৃত্যু: প্রশ্ন ক্ষমতার অসমতার

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৫

একটি ফ্ল্যাট। একটি পরিবার। একটি ১৯ বছরের তরুণী। আর সেই ঘরের ভেতর ঘটে যাওয়া একটি মৃত্যু—যার সত্য এখন তদন্ত, ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা ও আদালতের নথিতে খুঁজে বের করতে হবে। কিন্তু আইনের তদন্তের পাশাপাশি সমাজেরও একটি তদন্ত প্রয়োজন। সেই তদন্তের প্রশ্ন হলো—একজন অতি তরুণ মানুষ যখন এমন এক সম্পর্কে প্রবেশ করেন, যেখানে বয়স, সামাজিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সামর্থ্য ও রাজনৈতিক ক্ষমতায় বিপুল অসমতা থাকে, তখন সেই সম্পর্কের ভেতরে তাঁর নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার জায়গাটি কোথায়?


রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধারের পর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে। সোমবার আদালত গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এগুলো মামলার বর্তমান পর্যায়ের তথ্য; কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ এখনো নেই।


তদন্তের ফল কী হবে, সেটিই শেষ কথা। কিন্তু এই ঘটনার সামাজিক পাঠ কি শুধু আদালতের রায়ের অপেক্ষায় থাকবে? আমার মনে হয়, না। মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুলের বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসে গত জুলাইয়ে, যখন তাঁদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে গাজী নজরুল নিজেই জানান, ওই তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তাঁদের বিয়ে হয়েছিল ১৭ জুন। এরপর জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে।


একটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক কীভাবে এক মুহূর্তে জনসম্মুখের আলোচনায় চলে আসে—এই ঘটনাও আমাদের নতুন করে ভাবায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা এখন কতটা ভঙ্গুর, সেটি আমরা বারবার দেখছি। কিন্তু তার চেয়েও গভীর প্রশ্নটি হলো—একজন ১৯ বছরের তরুণী এবং ৭৫ বছর বয়সী একজন সংসদ সদস্যের সম্পর্কের ভেতরে ক্ষমতার ভারসাম্য কেমন ছিল?


এখানে বয়সের ব্যবধানটিকে কেবল কৌতূহলের বিষয় হিসেবে দেখলে ভুল হবে। বয়সের সঙ্গে অভিজ্ঞতা, সামাজিক যোগাযোগ, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং সামাজিক প্রভাবও অনেক সময় যুক্ত থাকে। তার সঙ্গে যদি রাজনৈতিক ক্ষমতা যোগ হয়, তাহলে সম্পর্কটি কাগজে-কলমে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সম্পর্ক হলেও বাস্তবতার মাটিতে ক্ষমতার সমীকরণ একেবারে সমান নাও হতে পারে। এ কারণেই ভালোবাসার সঙ্গে ক্ষমতার প্রশ্নটি আলাদা করে দেখা দরকার।


ভালোবাসা ব্যক্তিগত। কিন্তু ক্ষমতা কখনো পুরোপুরি ব্যক্তিগত থাকে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য ও বিশ্লেষণেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সহিংসতার ঝুঁকির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ এবং সম্পর্কের ভেতরে ক্ষমতার বড় অসমতার যোগসূত্রের কথা বলা হয়েছে। শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি মানসিক নির্যাতন, ভয় দেখানো, বিচ্ছিন্ন করে রাখা, চলাফেরা বা অর্থনৈতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ—এসবও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সহিংসতার অংশ হতে পারে। বিশ্বব্যাপী প্রায় প্রতি তিনজন নারীর একজন জীবনের কোনো না কোনো সময়ে সঙ্গী বা অন্য কারও শারীরিক কিংবা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে ২০২৫ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে উঠে এসেছে।


অবশ্যই, এই বৈশ্বিক পরিসংখ্যানকে মরিয়মের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার দায় নির্ধারণ করে না এসব তথ্য। কিন্তু এগুলো আমাদের একটি বিষয় বুঝতে সাহায্য করে—সম্পর্কের ভেতরের ক্ষমতার অসমতা কোনো কল্পিত সমস্যা নয়; এটি বিশ্বজুড়ে গবেষণায় স্বীকৃত একটি সামাজিক বাস্তবতা।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও