বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে কাঙ্ক্ষিত মেধা তালিকায় নাম দেখে যে শিক্ষার্থীরা জীবনের নতুন অধ্যায় শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, চূড়ান্ত মুহূর্তে এসে তারা আবিষ্কার করলেন—পুরোটাই ছিল পরিকল্পিত প্রতারণার ফাঁদ। ‘ফুললি ফান্ডেড’ বৃত্তির লোভ দেখিয়ে শেষ ধাপে এসে সব প্রতিশ্রুতি থেকে একঝটকায় সরে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশন।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতারণা ও ছিনিমিনি খেলার অধিকার পাকিস্তানকে কে দিয়েছে? ‘নলেজ করিডোর’ ও ‘আল্লামা ইকবাল স্কলারশিপের’ নামে বাংলাদেশি তরুণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা আমাদের দেশের সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের মেধা, মূল্যবান সময় ও জীবনের সঙ্গে করা ঘৃণ্য ও পরিকল্পিত প্রতারণা।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা গেছে, ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন এবং পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশন (এইচইসি) অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে শিক্ষামেলা ও প্রচারণার আয়োজন করে। সেখানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ফুললি ফান্ডেড’ বা সম্পূর্ণ অর্থায়িত স্কলারশিপের এক অত্যন্ত লোভনীয় ও চটকদার সুযোগের ঘোষণা দেওয়া হয়। সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি, থাকার ব্যবস্থা, প্রতি মাসে সম্মানজনক জীবনযাত্রার ভাতা, এককালীন সেটেলমেন্ট থোক বরাদ্দ এবং যাতায়াতের জন্য রিটার্ন এয়ার টিকিটের মতো সমস্ত সুযোগ-সুবিধা লাভ করবে। দেশের হাজার হাজার মেধাবী শিক্ষার্থী বড় স্বপ্ন বুকে নিয়ে অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে এই বৃত্তির আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। দীর্ঘ কয়েক মাস নানা ধাপের আন্তর্জাতিক যাচাই-বাছাই পার হয়ে বহু শিক্ষার্থী অবশেষে তাদের কাঙ্ক্ষিত মেধা তালিকায় স্থান করে নিতে সক্ষম হন।