শিশুর বিলম্বিত বিকাশ, চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব অভিভাবকেরা
‘বাচ্চার মুখের দিকে তাকিয়ে দুই বছরে পাঁচ লাখ টাকা খরচ কর ফেলেছি। সামনে কত টাকা খরচ করলে বাচ্চা সুস্থ হবে জানি না।’
কথাগুলো বলতে বলতে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি মো. আরেফিন। চাঁদপুরের কচুয়া থেকে তিন বছর বয়সী ছেলে হাসান ইমামকে নিয়ে রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের শিশু বিকাশ কেন্দ্রে এসেছেন তিনি। তিন বছর বয়সেও হাসান হাঁটতে পারে না, নিজে খেতে পারে না। স্বাভাবিক শিশুদের মতো দেখায়ও না।
সন্তানের চিকিৎসার পেছনে দুই বছরে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করেছেন আরেফিন। সামনে আরও কত টাকা লাগবে, কতদিন চিকিৎসা চালাতে হবে—কিছুই জানেন না। শুধু জানেন, সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে হবে।
আরেফিনের মতো একই লড়াই করছেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর ফাতেমা খাতুন। ১১ মাস বয়সী ছেলে আরাফাতের ঘাড় এখনো শক্ত হয়নি। চোখেও কম দেখে। মাঝেমধ্যে খিঁচুনি হয়। ঠিকমতো খাবারও খেতে পারে না। গ্রামের মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা করে সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় এসেছেন তিনি।
ফাতেমা বলেন, ‘বাচ্চার ঘাড় শক্ত হয় না, চোখে কম দেখে। অনেক সময় খিঁচুনি হয়। ডাক্তার কইছে মাথায় পানি আছে। রোগ সারতে অনেক সময় লাগবে। ঘাড়ই শক্ত হয় না, হাঁটবে কই থেইকে। খাবারও খেতে পারে না।’
রাজধানীর মিরপুরের ৬০ ফিট এলাকা থেকে ৩৩ মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে শিশু বিকাশ কেন্দ্রে এসেছেন বৃষ্টি রাণী দাশ। শিশুটি হাঁটতে পারে, কিন্তু কথা বলতে পারে না। মাঝেমধ্যে নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করে। স্বামী পোশাককর্মী। এক রুমের সংসারে নিত্যদিনের খরচ চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে সন্তানের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও থেরাপির ব্যয় তাদের জন্য হয়ে উঠেছে বাড়তি বোঝা।
- ট্যাগ:
- স্বাস্থ্য
- শিশুর যত্ন
- শিশুর বিকাশ