প্রতিবাদ ও জবরদস্তির সীমারেখা ভুলে গেলে চলবে না
একটি রাষ্ট্রের সভ্যতা শুধু তার অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো কিংবা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান দিয়ে পরিমাপ করা যায় না; মানুষের ভিন্নমত, ভিন্ন রুচি, ভিন্ন জীবনাচরণ ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজ কতটা সহনশীল, সেটিও তার সভ্যতার অন্যতম প্রধান মাপকাঠি। বাংলাদেশ একটি ধর্মপ্রাণ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ। একই সঙ্গে এটি ভাষা, সাহিত্য, সংগীত, নাটক, খেলাধুলা ও লোকসংস্কৃতির সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের দেশ। তাই ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি সম্মান এবং সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার সুরক্ষা, দুটিকে পরস্পরের প্রতিপক্ষ হিসাবে দাঁড় করানো বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতার জন্য যেমন বিপজ্জনক, তেমনই রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চরিত্রের জন্যও উদ্বেগজনক।
কিন্তু বর্তমানে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন ক্রমেই বড় হয়ে উঠছে-এ রাষ্ট্রে কোনো অনুষ্ঠান বন্ধ হবে কি হবে না, তা কি শেষ পর্যন্ত আইন ও প্রশাসনিক বিধিবিধান নির্ধারণ করবে, নাকি কোনো সংগঠিত গোষ্ঠীর আপত্তি, হুমকি কিংবা রাস্তায় শক্তি প্রদর্শনই হয়ে উঠবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের নিয়ামক? প্রশ্নটি কেবল কোনো কনসার্ট, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা কোনো ফুটবল ম্যাচ নিয়ে নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব, নাগরিক স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সামাজিক চরিত্র।