নেপালের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের পার্বত্যাঞ্চলে তদারকি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বাড়াতে হবে
ড. মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক। এছাড়া একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইনফ্রাস্ট্রাকচার রিসার্চ অ্যান্ড সার্ভিসেসের (সিআইআরএস) সাবেক পরিচালক। এছাড়া আইইবির বোর্ড অব অ্যাক্রেডিটেশন ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশনের সদস্য। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরকৌশলে স্নাতক, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরে স্নাতকোত্তর করেন। এছাড়া জাপানের দি ইউনিভার্সিটি অব টোকিওতে এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর পিএইচডি করেছেন। একজন নদী ও পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ হিসেবে সম্প্রতি নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বাংলাদেশের জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে আলাপ করেছেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিদিন ইব্রাহিম
নেপালে ২৬ আগস্ট একটি হিমবাহ গলে যাওয়ার পর ৫ দশমিক ২ রিখটার স্কেলের ভূকম্পন অনুভূত হয়। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ফ্ল্যাশ ফ্লাডের কারণে কাদা ও ধ্বংসস্তূপে নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এখন আতঙ্কের জনপদ। এ ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণ কী হতে পারে বলে মনে করেন?
নেপালের পরিস্থিতি খুব দুঃখজনক। হিমালয়ের কাছের সবচেয়ে উঁচু জায়গাটিই নেপাল। বলা হয়, পৃথিবীতে উত্তর মেরু আর দক্ষিণ মেরু—এ দুই জায়গায় বরফ পাওয়া যায়। এদিকে হিমালয়কে বলা হয় থার্ড পোল। অর্থাৎ এখানে প্রচুর পরিমাণ বরফ সঞ্চিত আছে। এ বিষয়টা বোঝা জরুরি। আমরা সুপেয় পানির কথা বলি। পৃথিবীর ৯৭ দশমিক ৫ শতাংশ পানিই লবণাক্ত। বাকিটুকু সুপেয়। আবার সুপেয় পানির ৭০ শতাংশই বরফ হয়ে আছে দুই মেরু আর একাধিক পর্বতমালার শৃঙ্গে। মাউন্টেন রেঞ্জের ওপর যত বরফ আছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আছে হিমালয়ে। যা-ই হোক, গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড বা জিএলএফও যাকে বলা হয় সেটাকে সোজা বাংলায় বরফের নদী বললেই ভালো হয়। বছরজুড়ে এসব বরফের নদী থেকে আমাদের নদীগুলো পানি পায়। তবে পানি পাওয়ার পরিমাণ অল্প হলে সমস্যা নেই। একটা ভারসাম্য থাকা জরুরি। জুন-জুলাইয়ের বৃষ্টিকে আমরা ওরোগ্রাফিক প্রিসিপিটেশন বলি। মানে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বাষ্পীভূত পানি ধীরে ধীরে ওপরে উঠে যায়। সেটা ঘন হয়ে বৃষ্টি হয়। সিলেট, মেঘালয়—এসব জায়গায় বৃষ্টি হয়ে পানিটা ধীরে ধীরে আবার নদীর মাধ্যমে সমুদ্রে ফিরে যায়। এভাবেই হিমালয়ের দক্ষিণে তিনটি মেজর রিভার সিস্টেম রয়েছে। একটি গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র আরেকটি সিন্ধু নদী। এগুলোর সঙ্গে হিমালয়ের ওই বরফের সম্পর্ক রয়েছে। সারা বছরই বরফগলা পানি কোনো না কোনোভাবে অবদান রাখে। বর্ষায় নিম্নচাপের জন্য কিছু জলীয় বাষ্প ওপরে উঠে আবার বরফ জমা হয়। এভাবেই ওপরে জমা হচ্ছে, নিচে আবার হিমবাহ হয়ে নেমে আসছে। এসেই তার ডগাটুকু গলে নদীতে ফিরছে। এগুলোর মধ্যে ভারসাম্য থাকলে অসুবিধা থাকে না।
- ট্যাগ:
- মতামত
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ