গুর্খাদের নিয়ে নাটক এবং বন্যা

www.ajkerpatrika.com নেপাল মামুনুর রশীদ প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৮

একটি নাটকের কাজে নেপালে এসেছি। কোনো চলচ্চিত্র বা টিভি নাটকের জন্য নয়। একটি মঞ্চনাটকের জন্য। নাটকটি হবে নেপালি ভাষায়। আর লিখেছেন একজন হংকংবাসী চীনা নাগরিক। তিনি লিখেছেন ইংরেজিতে। ইংরেজি থেকে নেপালি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। লেখক আমার পুরোনো বন্ধু। ১৯৮৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি কর্মশালায় পরিচয়। সেই থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নাটকের কর্মকাণ্ডে একসঙ্গে গিয়েছি। তিনি আমাদের দেশেও বহুবার এসেছেন। একসঙ্গে আমরা এশিয়ান পিপলস থিয়েটার গড়ে তুলেছি।


বহু বছর ধরে তাঁর মাথায় একটি পরিকল্পনা ঘুরছে, তা হলো গুর্খা জনগোষ্ঠীকে নিয়ে একটি মঞ্চনাটক নির্মাণ করা। তাঁর মাথায় খুব শক্ত করেই ঢুকে গেছে গুর্খা জনগোষ্ঠী সাহসী এবং দরিদ্রও বটে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ তাদের বহু যুগ ধরে ব্যবহার করে আসছে। প্রথম মহাযুদ্ধ, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ, মালয়ে জরুরি ব্যবস্থায় এদের ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু যুদ্ধ শেষে পাওনা যা মিলবার তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মেলেনি। তাদের কেউ কেউ ইংল্যান্ডে, হংকংয়ে অথবা নেপালে শেষ জীবন কাটায়।

এর মধ্যেই নানা প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন লেখক মক কিউ-ইউ। দুরূহ কাজ। ইংরেজি ও নেপালি দুটোই আমার মাতৃভাষা নয়। অনেক কষ্ট করে বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করতে হয়। কারণ, নির্দেশকের দায়িত্ব আমার। নেপালি, চীনা ও ব্রিটিশদের সঙ্গেই কাজ। নেপালিদের মধ্যে গুর্খারাও স্বতন্ত্র। তারা আদিবাসী। তাদের সংস্কৃতি ভিন্ন। তারা অত্যন্ত সরল ও অসমসাহসী। প্রথম মহাযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয়ী হওয়ার পেছনে তাদের ভূমিকা অতুলনীয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধেও বার্মায় জাপানিদের বিরুদ্ধে তারা প্রাণপণ লড়েছে। এসব মিলিয়েই এই নাটক।

মহড়া চলছে সারা দিনই। এর মধ্যেই অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে গেল। প্রবল বর্ষণে নেপালে অবিশ্বাস্য এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ সারা বিশ্বকেই নাড়া দিয়ে গেছে। ২৬ আগস্ট সকাল ১০টায় দীর্ঘ নদী ভোতে কোশি ও ত্রিশূলীতে জলোচ্ছ্বাস শুরু হয়। ভোতে কোশির পানি ত্রিশূলীতে এসে মেশে এবং নদীটির উত্তরে চীন দেশ। নদীটি কিছু কিছু স্থানে নাব্য ছিল, কোথাও আবার প্রায় শুষ্ক। হঠাৎ জলোচ্ছ্বাসে নদী তো বটেই, আশপাশের আবাসিক স্থান, হোটেল, বাজার-ঘাট, স্কুল-কলেজ সব জায়গা প্রচণ্ড বেগ নিয়ে ডুবে যায়।


জানা গেছে, পাঁচ শতাধিক লোক ইতিমধ্যেই নিহত এবং শত শত মানুষ আহত এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছে। উদ্ধারকাজ চলছে। ঘটনাস্থলটি রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে। আমরা বিকেলের আগে বিষয়টি বুঝতেই পারিনি। মানুষের তেমন আহাজারিও দেখা যায়নি। নেপাল অবশ্য এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ অতীতেও দেখেছে। বেশি দিন আগে নয়, ২০১৫ সালে একটা ভূমিকম্পে ৯ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল এবং ২০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছিল। তবে উদ্ধারকাজটা কেমন হয়, সেদিকে সবাই নজর দেয়, জনগণও ঝাঁপিয়ে পড়ে।


কাঠমান্ডুতে আমাদের আরও কিছু দিন থাকতে হবে। শেষ পর্যন্ত, এই বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কী দাঁড়ায় এবং রাষ্ট্র বিষয়টি কীভাবে দেখবে, তা-ও দেখার বিষয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও