‘বাঁচতে চাইলে সব দে’, ঢাকায় ঢুকেই যাত্রাবাড়ীতে তাঁরা অপরাধের শিকার
তখন ভোর। রাঙামাটির বাসে ঢাকায় এসে যাত্রাবাড়ীতে নামেন চিকিৎসক শামসুন্নাহার হেনা। যাবেন চাঁদপুরে। ভোরের লঞ্চ ধরতে রিকশায় যাত্রাবাড়ী থেকে রওনা দেন সদরঘাটের উদ্দেশে।
তারপর কী হয়েছে, তা বর্ণনা করেন শামসুন্নাহার নিজেই। মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, যাত্রাবাড়ী মোড়ের কাছে তিনজন ছিনতাইকারী রিকশাটি থামায়। তাদের একজন রিকশাচালকের গলায় চাকু ধরে, অন্যজন তাঁর (শামসুন্নাহার) গলায়। আরেকজন সামনে দাঁড়িয়ে ব্যাগে কী কী আছে, তা জানতে চায়।
শামসুন্নাহার বলেন, ‘তারা আমার গলায় চাকু ধরে বলে, “জান বাঁচাইতে চাস, নাকি মাল চাস? বাঁচতে চাইলে সব দে।” তখন আমি ভয়ে ভয়ে বলি, জান চাই। তারপর ওরা ফোন, লাগেজ—সবকিছু নিয়ে যায়।’
যাত্রাবাড়ীর এ ছিনতাইয়ের ঘটনা গত ৩ ফেব্রুয়ারির। পরদিন শামসুন্নাহার যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন। তিনি বলেন, র্যাবে তাঁর এক আত্মীয় চাকরি করেন। তাঁর সহায়তায় মুঠোফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে অন্য কিছু ফেরত পাননি।
ফরিদপুর থেকে গাড়িতে যাত্রী নিয়ে ১২ আগস্ট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন রাজু শেখ। গাড়িটি যখন যাত্রাবাড়ীর মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে (উড়ালসড়ক) উঠছিল, তখন কিছুটা যানজটে পড়ে। উড়ালসড়কে রাজু শেখের গাড়ির সামনে থাকা অন্য একটি গাড়ির যন্ত্রাংশ খুলে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন এক ব্যক্তি। গাড়িটির চালক ও যাত্রীরা তা দেখে ফেলেন এবং নেমে ওই ব্যক্তিকে কয়েকটি কিলঘুষি দিয়ে ছেড়ে দেন।
ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি। চালক ও যাত্রীরা আবার গাড়িতে উঠতেই ওই ব্যক্তি তাঁদের গাড়ির পিছু নেন। এ ঘটনার কিছু অংশ ভিডিও করেন রাজু শেখ। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেন তিনি।
- ট্যাগ:
- বাংলাদেশ
- ছিনতাইকারীর কবলে