ছেলেরা এত বেশি ফেল করছে কেন

প্রথম আলো মনোজ দে প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৪

এবার এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সাধারণ, কারিগরি ও মাদ্রাসা মিলিয়ে গড় পাস করেছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। এর অর্থ, প্রায় ৩৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। সব মিলিয়ে ৬ লাখ ৯০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এ বছর ফেল করেছে। আবার ১৮ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ–৩ দশমিক ৫ থেকে আরও কম জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৫ শতাংশ। কম জিপিএ পাওয়া এসব শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনেও ভুগতে হবে।


শিক্ষা–বিশ্লেষকেরা এবারের ফল বিপর্যয়ের পেছনে গণিত ও ইংরেজির দুর্বলতাকে দায়ী করেছেন। এ ছাড়া মানবিক বিভাগের খারাপ ফলাফল সামগ্রিক ফলাফলে ভূমিকা রেখেছে। ফলাফল প্রকাশের দিন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক একটু রূপকের মতো করে বলেন, ‘মন খুলে গান গাওয়া যায়, পরীক্ষার খাতায় নাম্বার দেওয়া যায় না।’ প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন অবশ্য সরাসরি বলেছেন, ‘এবারে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল নির্মোহভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।’


শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা উপদেষ্টার বক্তব্য থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার, আওয়ামী লীগের সময়ে পাসের হার ও জিপিএ-৫–এর যে সুনামি চলছিল, সেখান থেকে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলকে বের করে আনতে চেয়েছে বিএনপি সরকার। এই প্রচেষ্টা অবশ্য শুরু হয়েছিল অন্তর্বর্তী আমলেই। গতবারের পরীক্ষার পর শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরারও নির্মোহভাবে পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়নের কথা বলেছিলেন। সেবারে অবশ্য পাসের হার এবারের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেশি ছিল।


বাংলাদেশে শিক্ষা ও কারিকুলাম নিয়ে পরীক্ষার শেষ নেই। একটা সময় পর্যন্ত পুরোটাই লিখিত পরীক্ষা ছিল। সে সময়ে পাসের হার ৩০ থেকে ৪০–এর ঘরে ওঠানামা করত। ১৯৯০-এর দশকে এমসিকিউ চালুর পর পাসের হারে বড় উল্লম্ফন ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে পাসের হার ৮০-এর ঘরে পৌঁছায়, কোনো কোনোবার সেটা ৯০ শতাংশের ঘরও পেরিয়ে যায়।


পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বোর্ড থেকেই হাতখুলে নম্বর দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হতো। সেটার ব্যত্যয় হলে অনেক ক্ষেত্রেই পরীক্ষকদের জবাবদিহি করা লাগত। এই ঝক্কি এড়াতেই শিক্ষকদের হাতখুলে নম্বর দেওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়েছিল। এ নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষাবিদ, শিক্ষক—সবার মধ্যেই ক্ষোভ ছিল। এই বাড়িয়ে দেখানো ফলাফলের বৃত্ত থেকে পাবলিক পরীক্ষাকে বের করে আনা জরুরি। তবে শিক্ষাকে শুধু পাস-ফেলের লেন্স থেকে দেখার বিপদ অনেক।


সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসএসসি, এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষার খারাপ ফল করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে। আঁচল ফাউন্ডেশনের তথ্য বলছে, এবারে এসএসসি পরীক্ষার ফল ঘোষণার এক সপ্তাহের মধ্যে ১০ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এর মধ্যে ৭ জন ছাত্রী ও ৩ জন ছাত্র।


পাস-ফেলের লেন্স থেকে শিক্ষাকে দেখা হলে সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়া হয়, সেটা হলো পরীক্ষায় ফেলের দায় কি শুধুই শিক্ষার্থীদের। সব শিক্ষার্থীর জন্য সরকার কি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করেছে? ফলাফলের দিক একটু তাকানো যাক। ঢাকা মহানগরে পাসের হার ৮৪, চট্টগ্রাম মহানগরে ৭৪। ঢাকার আশপাশের জেলা গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও নরসিংদীতে পাসের হার ৭২ থেকে ৮৩ পর্যন্ত। অন্যদিকে খাগড়াছড়িতে পাসের হার ৩৫ শতাংশ। জিপিএ-৫-এর ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে, সাড়ে পাঁচ ভাগের এক ভাগই এসেছে ঢাকা মহানগর থেকে।


বৈষম্য পরিমাপের মাপকাঠি জিনি সহগ বলছে, চরম বৈষম্যমূলক দেশের একবারে প্রান্তসীমায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। জিডিপি, বাজেট ও প্রবৃদ্ধি যত বড় হচ্ছে বৈষম্যের ব্যবধানটা ততই বড় হচ্ছে। শিক্ষা খাতেও এই অর্থনৈতিক বৈষম্যের ধাক্কাটা তীব্রভাবেই এসে লেগেছে। বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে, এমনকি শিক্ষার বনিয়াদি স্তরেও রাষ্ট্রীয়ভাবেই স্বীকৃত ‘বর্ণপ্রথা’ চালু রয়েছে।


ধনী ও উচ্চমধ্যবিত্তের জন্য ইংলিশ মিডিয়াম, মধ্য–মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নমধ্যবিত্তদের জন্য সাধারণ বিদ্যালয়, নিম্নবিত্তের জন্য মাদ্রাসা। এর বাইরেও সাধারণ শিক্ষার ইংরেজি ভার্সন, ক্যাডেট, ইংরেজি মিডিয়াম মাদ্রাসাসহ আরও কয়েক ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থায় এই বৈষম্যের কারণে কে কোন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ছে, তার ওপরই অনেকটা তার ভবিষ্যৎ কর্মজীবন লেখা হয়ে যাচ্ছে।


পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পর কয়েক দিন গণমাধ্যমের পাতা ভরে ওঠে চা-বাগানের শ্রমিক কিংবা দিনমজুরের কোনো সন্তানের ভালো ফলের গল্পে। এসব ঘটনা সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়। কারণ, সেগুলো বিরল, ব্যতিক্রম।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও