ডেঙ্গু আর হামে মৃত্যু কি অপ্রতিরোধ্যই থাকবে?
একটি শিশুর শরীরে জ্বর। প্রথমে পরিবার ভাবে, সাধারণ জ্বরই হবে। কয়েক দিন পর চোখ লাল, শরীরে ফুসকুড়ি, খাওয়ার অনীহা। হাসপাতালে নেওয়ার পর জানা যায়—হাম। অন্যদিকে আরেক পরিবারের সদস্য প্রচণ্ড জ্বর, শরীর ব্যথা ও দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে। পরীক্ষায় ধরা পড়ে ডেঙ্গু। একই সময়ে দেশের হাসপাতালগুলোতে দুই ধরনের রোগীর চাপ বাড়ছে। একদিকে হামের দীর্ঘস্থায়ী প্রাদুর্ভাব, অন্যদিকে দ্রুত বাড়তে থাকা ডেঙ্গু।
প্রশ্ন তাই শুধু কতজন আক্রান্ত হলেন বা কতজন মারা গেলেন—এটি নয়। আরও কঠিন প্রশ্ন হলো, যে রোগগুলোর ঝুঁকি সম্পর্কে আমরা জানি, যেগুলোর প্রতিরোধের উপায়ও কমবেশি আমাদের জানা, সেগুলোতে মানুষ—বিশেষ করে শিশুরা—এভাবে মারা যাবে কেন?
২২ আগস্ট পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৩০। এর মধ্যে ৯৯টি মৃত্যু পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ, আর ৮৩১টি মৃত্যু সন্দেহজনক হামের উপসর্গজনিত। একই সময়ে সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪০৬ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগী ১৮ হাজার ২৭৩ জন। প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৮৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।
এই পরিসংখ্যানের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অংশ হলো—মৃতদের বড় অংশই শিশু। আরও উদ্বেগের বিষয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃত IEDCR ও WHO-সমর্থিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হামে মারা যাওয়া শিশুদের ৯২ শতাংশ টিকা নেয়নি। সরকার ইতিমধ্যে বাদ পড়ে যাওয়া শিশুদের টিকাদানের জন্য নতুন কর্মসূচি নিয়েছে এবং ১৬ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার উদ্যোগের কথা জানিয়েছে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- ডেঙ্গু জ্বর
- ডেঙ্গুর টিকা
- ডেঙ্গু