গণপতি পরিবার হত্যা: পুলিশি বয়ানের আড়ালে যে প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে
মাদক সেবনের দৃশ্য দেখে ফেলায় ‘লজ্জা পেয়ে’ গভীর রাতে একই পরিবারের চারজন মানুষকে হত্যার যে বয়ান পুলিশ দিয়েছে, তা শুরু থেকেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। শুধু হত্যাকাণ্ডই নয়, ঘটনার পর নিহতদের বাথরুমেই খুনিদের গোসল করা, ফ্রিজ থেকে বের করে শসা-খেজুর খাওয়া এবং বিদ্যুতের লাইন কেটে অন্ধকারে ঘরে সোনা পরীক্ষা করার বিবরণগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তিসঙ্গত সংশয় তৈরি করেছে। এই অসঙ্গতিগুলো নিয়ে যখন ব্যাপক আলোচনা চলছে, তখনই আদালতে আসামিদের দায় স্বীকারের খবর আসে। তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, “দুই আসামি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। ফলে তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।”
অথচ রংপুর জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে মাছুয়া পাড়ায় দোতলা বাড়িটি করেছিলেন। স্ত্রী প্রীতিলতা, কারমাইকেল কলেজের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আয়ুশকে নিয়ে এটি ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবার। চার চারটি নির্মম মৃত্যুর পর ঘটনার মূল মোটিভ উদঘাটনের বিষয়টি যেখানে প্রাধান্য পাওয়ার কথা, সেখানে তদন্তের শুরুতেই পুলিশের তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত সন্দেহ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- তদন্ত
- তদন্ত কার্যক্রম