শিশুহত্যা: আড়ালে থেকে যাচ্ছে বড় যে সংকট

প্রথম আলো লায়লা খন্দকার প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ২০:৪২

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছর বয়সী এক শিশুকে গলা কেটে হত্যা কিংবা রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার মতো ঘটনা দেশজুড়ে গভীর ক্ষোভ ও আলোড়নের সৃষ্টি করেছিল। দ্রুত তদন্ত, গ্রেপ্তার এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার কারণে ঘটনাগুলো ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—যেসব শিশুহত্যার ঘটনা জাতীয় আলোচনায় আসে না, তাদের কী হয়?


শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘শিশুরাই সব’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন এক উদ্বেগজনক বাস্তবতা সামনে নিয়ে এসেছে।


জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে তৈরি এ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন—মাত্র ছয় মাসে দেশে অন্তত ৮৬ শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি মেয়ে, ৩৬টি ছেলে এবং ৩ শিশুর পরিচয় জানা যায়নি। তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালের পুরো বছরে শিশুহত্যার সংখ্যা ছিল ১২৪। অর্থাৎ ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১৪ শিশু হত্যার শিকার হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।


প্রায় অর্ধেক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে পারিবারিক পরিসরে। আবার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ঘটনা ঘটেছে জনপরিসরে। অনেক ক্ষেত্রে মেয়েশিশুরা হত্যার আগে যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছে, আর ছেলেশিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়েছে পারিবারিক বিরোধ কিংবা জনপরিসরের সহিংসতায়।


অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হত্যাকারী অপরিচিত কেউ নয়; বরং শিশুর পরিচিত মানুষ। মা–বাবা, সৎবাবা বা সৎমা, আত্মীয়স্বজন কিংবা প্রতিবেশীরাই অনেক ঘটনায় দায়ী। প্রতিবেদনে দেখা যায়, অন্তত ১৭টি হত্যাকাণ্ডে মা-বাবা এবং ১১টিতে নিকটাত্মীয় জড়িত ছিলেন। আরও ২২টি ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন প্রতিবেশী বা পরিচিত ব্যক্তি। শিশুহত্যার ঘটনাগুলো একটি কঠিন বাস্তবতার দিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব কিংবা ব্যক্তিগত শত্রুতার প্রতিশোধ নেওয়া হচ্ছে শিশুদের ওপর।


মা-বাবার হাতে সন্তান হত্যার ঘটনাও বাড়ছে। পারিবারিক কলহ, মাদকাসক্তি, রাগ-ক্রোধ, আর্থিক সংকট, পরকীয়াজনিত দ্বন্দ্ব কিংবা দীর্ঘদিনের মানসিক অস্থিরতার মতো কারণ বিভিন্ন ঘটনায় উঠে এসেছে। কিন্তু এসব ব্যাখ্যা কোনোভাবেই এ নির্মমতার গ্রহণযোগ্য কারণ হতে পারে না। এ প্রবণতার পেছনের সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলো নিয়ে আরও গভীর গবেষণা প্রয়োজন, যাতে কার্যকর প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়।


শিশুদের পূর্ণ মানুষের মর্যাদা দিতে হবে


বয়স্করা অন্যদের ওপর নিজেদের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য শিশুদের হত্যা করলে তা খবরের শিরোনাম হয়। কিন্তু নিজেদের জীবনের হতাশার কারণে শিশুদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা আমাদের সমাজে খুব সাধারণ ব্যাপার। ধরা যাক, কোনো এক ব্যক্তি সারা দিন কর্মস্থলে তীব্র মানসিক চাপে ছিলেন, কিন্তু সেখানে কাউকে কিছু বলতে পারেননি। তিনি ঘরে ফিরে শিশুকে বকাবকি করলেন বা অন্যের কারণে বিরক্ত হয়ে নিজের রাগ ঝাড়লেন শিশুর ওপর।


আমাদের দৈনন্দিন আচরণের মধ্যে শিশুদের প্রতি অসম্মান, অপমান এবং ক্ষমতার অপব্যবহার যেন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। শিশুরা ছোট বলে তাদের মানবাধিকার ও মর্যাদা কারও চেয়ে কম নয়; বরং তাদের সুরক্ষায় আমাদের দায়িত্ব আরও বেশি। নানা বয়সের শিশুদের চিন্তাভাবনা ও অনুভূতি বুঝে তাদের দিকনির্দেশনা দেওয়া উচিত। কিন্তু আমরা কি তা করছি?


আমরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শিশুদের কথা মন দিয়ে শুনি না, তাদের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিই না। এমনকি অনেক সময় এমন ভাষা ব্যবহার করি, যা তাদের আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাসে গভীর আঘাত করে। আমরা প্রায়ই শিশুদের পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে নয়; বরং বড়দের অধস্তন হিসেবে দেখি। তাই শিশুরা অনবরত নানা ধরনের শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। শিশুদের প্রতি সম্মান, সহমর্মিতা ও মর্যাদাবোধ পারিবারিক ও সামাজিক সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ না হলে সহিংসতার এই চক্র ভাঙা সম্ভব নয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও