চাইলেই কাল সকালে বিদ্যুৎ আর গ্যাস দিতে পারব না
সরকার ছয় মাসে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, আরও নেওয়ার অপেক্ষায়। গ্যাস–বিদ্যুতের সমস্যা, রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি, আইএমএফ থেকে ঋণ, বিনিয়োগ পরিস্থিতি, সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে শুক্রবার গুলশানের বাসায় কথা বলেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
প্রথম আলো: অর্থবছর বদলালেন কেন? এতে কী লাভ হবে?
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: অর্থবছরটা এত দিন ছিল জুলাই–জুন। এখন হবে এপ্রিল–মার্চ। অর্থবছর জুলাইয়ে যখন শুরু হয়, তখন থাকে বর্ষাকাল। আমরা দেখেছি যে প্রস্তুতি নেওয়া হয় শুষ্ক মৌসুমে, কাজ শুরু হয় বর্ষাকালে। এতে বাজেট বাস্তবায়ন পিছিয়ে যায়। বেশির ভাগ কাজ হয় শেষ দিকে। অর্থাৎ প্রস্তুতি নিতে নিতেই ভালো একটা সময় চলে যায়। এখন শুষ্ক মৌসুমে পুরোদমে কাজ করা যাবে। প্রকল্প বাস্তবায়নটা অনেক সহজ হয়ে যাবে। এত দিন তো কাজ শুরু হতো পানির মধ্যে। এতে একদিকে অপচয় হতো, অন্যদিকে হতো দুর্নীতি। আমরা বলি না, টাকা পানিতে গেল। এটাও সে রকম। শেষ মুহূর্তে টাকা ছাড় করলে অনেক ক্ষেত্রে তা সব পানিতে যেত। এখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্যই নতুন অর্থবছরের সিদ্ধান্ত নিলাম।
প্রথম আলো: এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কোনো সমীক্ষা বা বিশ্লেষণ করা হয়েছে?
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: তা করতে হবে কেন? আমাদের হাতেই তো সব আছে। সব তো দেখতেই পাচ্ছি। নতুন সিদ্ধান্তে প্রকল্প বাস্তবায়নটা অনেক তাড়াতাড়ি হবে, অর্থের অপচয় কম হবে এবং দুর্নীতিও কম হবে বলে আমরা আশা করছি।
প্রথম আলো: ছয় মাস আগে দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতির যে অবস্থা পেয়েছিলেন, এখন কোন কোন সূচকে আমরা একটু ভালো আছি? সাফল্য ও ব্যর্থতা জানতে চাই। কী কী করতে পারছেন না? বাধা কোথায়?
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: সাফল্যের কথা বলছি। প্রথমত, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ছিল ৩৪ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন ডলার। ১৩ আগস্ট তা বেড়ে ৩৭ দশমিক ১১ বিলিয়নে উন্নীত হয়েছে। লেনদেনের ভারসাম্য ২৬ জানুয়ারি ছিল ২ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত। গত ২৬ জুলাই তা উন্নীত হয়েছে ৬ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারে। আর আমরা সবাই জানি, রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি অব্যাহত আছে। নীতি সুদহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। আন্তব্যাংক লেনদেনসহ অন্য সুদহারও কমছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। ব্যাংক খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। অর্থ পাচারও মোটামুটি প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছি। ঋণখেলাপির সংস্কৃতি নিরুৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক খাতে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার জন্য নেওয়া হয়েছে কঠোর অবস্থান। খেলাপি ঋণ যাতে আর না বাড়তে না পারে সে জন্য সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া পদক্ষেপগুলো কাজ করতে শুরু করেছে। ছয় মাসে আর্থিক খাতে ভালো উন্নয়ন হয়েছে বলে মনে করছি।