সুরক্ষাবলয়ে ফাটল : হামের কাছে কেন হার মানছে শিশুরা?

ঢাকা পোষ্ট আনোয়ার খসরু পারভেজ প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৪:০৮

মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে হাজারের কাছাকাছি শিশুর মৃত্যু এবং হাজার হাজার শিশুর আক্রান্ত হওয়ার তথ্য একটি নির্মম সত্যকে উন্মোচিত করেছে—আমাদের অর্জিত স্বাস্থ্য সুরক্ষাবলয়ে মারাত্মক ফাটল ধরেছে। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক টিকাদান ও নিবিড় তদারকির মাধ্যমে আমরা হাম নিয়ন্ত্রণে যে সাফল্য অর্জন করেছিলাম, তা আজ বড় ধরনের সংকটের মুখে।


হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসবাহিত রোগ। এর ‘বেসিক রিপ্রোডাকশন নম্বর’ বা R0 মান ১২ থেকে ১৫। সহজ কথায়, একজন আক্রান্ত শিশু তার চারপাশে থাকা ১২ থেকে ১৫ জন স্পর্শকাতর বা অনাক্রম্যতাহীন ব্যক্তির মধ্যে এই সংক্রমণ অতি দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সক্ষম। জনগোষ্ঠীর একটি ছোট অংশও যদি সুরক্ষিত না থাকে (টিকা না পায়), তবে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পথ পেয়ে যায়।


একটা জনগোষ্ঠীকে অত্যন্ত ছোঁয়াচে হামের প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা করতে কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বা সামষ্টিক প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রয়োজন। কিন্তু ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাংলাদেশে প্রথম ডোজের (MR1) কভারেজ ৮৬ শতাংশে এবং দ্বিতীয় ডোজের (MR2) কভারেজ ৮০.৭ শতাংশে নেমে এসেছে।


এই ঘাটতির ফলে বিগত কয়েক বছরে লাখ লাখ শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে গেছে, যা তৈরি করেছে এক বিপজ্জনক ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’। এর মাশুল হিসেবে ২০২৬ সালের শুরু থেকে দেশের ৬১টিরও বেশি জেলায় হাম তীব্র আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।


হামকে কেবল একটি সাধারণ ভাইরাসের আক্রমণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি অপুষ্টি, অনাক্রম্যতার দুর্বলতা, চিকিৎসায় বিলম্ব এবং দ্বিতীয় কোনো মারাত্মক জীবাণুর যৌথ আক্রমণের ফলে তৈরি হওয়া এক জীবনঘাতী ফাঁদ।


একটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য রোগে শত শত শিশুর এই অকালমৃত্যু রোধ করতে আমাদের অণুজীববিজ্ঞানের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ত্রুটিগুলো একসঙ্গে টেবিলটকে এনে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।


অর্ধেকের বেশি শিশুর টিকা পাওয়ার বয়সই হয়নি


সাম্প্রতিক উপাত্তের একটি উদ্বেগজনক দিক হলো—হামে মৃতদের ৫১ শতাংশেরই বয়স ৯ মাসের কম (যার ২০ শতাংশের বয়স ৬ মাসের নিচে এবং ৩১ শতাংশের বয়স ৬ থেকে ৯ মাস)। অর্থাৎ, আক্রান্ত ও মৃত শিশুদের অর্ধেকের বেশি শিশুই প্রাতিষ্ঠানিক টিকা পাওয়ার বয়সে পৌঁছায়নি।


চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, জীবনের প্রাথমিক দিনগুলোয় শিশুরা মায়ের শরীর থেকে নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতা বা প্রতিরোধ ক্ষমতা লাভ করে। তবে করোনাকালীন স্থবিরতার সময় যেসব কিশোরী ও তরুণী সময়মতো টিকা পাননি বা প্রাকৃতিক সংক্রমণের মুখোমুখি হননি, তারা এখন মা হচ্ছেন। ফলে গর্ভধারণের পর তারা সন্তানকে পর্যাপ্ত প্রতিরোধ ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পারছেন না। এতে একদম কম বয়সী শিশুরা কোনো জন্মসূত্রীয় প্রতিরক্ষা ছাড়াই অরক্ষিত অবস্থায় ভাইরাসের মুখোমুখি হচ্ছে।


‘ইমিউন আমনেসিয়া’ বা অনাক্রম্যতার স্মৃতিভ্রংশ


হাম ভাইরাসের সবচেয়ে ভয়াবহ কৌশল হলো এটি শিশুর শরীরে ‘ইমিউন আমনেসিয়া’ বা অনাক্রম্যতার স্মৃতিভ্রংশ ঘটায়। হামের ভাইরাস প্রতিরোধ ব্যবস্থার ‘মেমোরি লিম্ফোসাইট’ কোষগুলো ধ্বংস করে দেয়। ফলে শিশু অতীতে যেসব রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করেছিল (যেমন অ্যাডেনোভাইরাস, নিউমোকক্কাস ইত্যাদি), সেই স্মৃতি মুছে যায়। এর পরিণতিতে শিশুটি অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াল ও ভাইরাল সহ-সংক্রমণের (যেমন সেকেন্ডারি নিউমোনিয়া, ডেঙ্গু বা অ্যাডেনোভাইরাস) সামনে একেবারেই দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।


নীতি-প্রশাসনিক ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার প্রতিবন্ধকতা


হামের এই সাম্প্রতিক পুনরুত্থান হঠাৎ করে একদিনে ঘটেনি। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, সরবরাহ শৃঙ্খলের জটিলতা এবং আবহাওয়ার বৈরী প্রভাবের সমন্বিত ফাটল দিয়েই এই ভাইরাস পুনরায় প্রবেশ করেছে—


সরবরাহ শৃঙ্খল ও ক্রয়নীতি পরিবর্তন: টিকার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সাময়িক জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে দেশের কেন্দ্রীয় গুদামে টিকার তীব্র ঘাটতি দেখা দেয়।


কর্মসূচির অগ্রাধিকার রদবদল: জরুরি জনস্বাস্থ্য প্রয়োজন মেটাতে টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচির মতো বিস্তৃত জাতীয় উদ্যোগ পরিচালনা এবং প্রশাসনিক পুনর্গঠনের ফলে পূর্বনির্ধারিত জাতীয় হাম-রুবেলা গণটিকাদান প্রায় সাত মাস পিছিয়ে যায়। এই সময়ক্ষেপণ অনাক্রম্যতার ঘাটতি বাড়িয়ে তুলেছিল।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও