অর্থবছর বদলাচ্ছে, কিন্তু ৫৫ বছর কেন লাগল?
৫৫ বছর ধরে জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত চলে আসা অর্থবছর এখন হতে যাচ্ছে এপ্রিল থেকে মার্চ। সময়ের হিসাবে পরিবর্তন মাত্র তিন মাসের। কিন্তু এর প্রভাব পড়বে সরকারের পুরো আর্থিক ব্যবস্থাপনায়। তাই প্রশ্নটা থেকেই যায়, এত বছর পর এখনই বা কেন এই বদল? আর এতদিন কেন বদলানো হলো না?
অর্থবছর হলো সরকারের হিসাবের নিজস্ব বারো মাস। এই সময়ের মধ্যেই ঠিক হয় কত রাজস্ব আসবে, কোথায় কত টাকা খরচ হবে এবং কোন প্রকল্পে কত বরাদ্দ যাবে। জিডিপি, মূল্যস্ফীতি, উন্নয়ন কর্মসূচি থেকে শুরু করে সরকারি ঋণ ও ব্যয়ের হিসাবও ওই সময়ের ভিত্তিতে করা হয়। অর্থাৎ সরকারের আর্থিক পরিকল্পনার বড় একটা অংশই অর্থবছরকে ঘিরে। বাংলা বা ইংরেজি বছরের সঙ্গে এর সরাসরি মিল থাকতেই হবে, এমন নয়।
ইতিহাস খুঁজলে দেখা যায়, ব্রিটিশ আমলে ভারতবর্ষে এপ্রিল থেকে মার্চ পর্যন্ত অর্থবছরের চল ছিল। রাজস্ব আদায়ের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই তখন এই সময়সূচি ঠিক করা হয়েছিল। দেশভাগের পর পাকিস্তান আমল থেকে এই নিয়ম বদলে জুলাই থেকে জুন করা হয়। স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭২ সালে প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ একবার ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত একটা সংক্ষিপ্ত অর্থবছরের বাজেট দিয়েছিলেন। তারপর থেকে জুলাই-জুনই বহাল থেকেছে। এই দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মটা না বদলানোর পেছনে দুটো বড় কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, বিশ্বব্যাংকের অর্থবছরও জুলাই-জুন। আর উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর ঋণ ও অনুদানের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল একটা দেশ হিসেবে তাদের সঙ্গে হিসাব মিলিয়ে চলাটা সুবিধাজনক ছিল। দ্বিতীয়ত, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রশাসন, ব্যাংকিং খাত সবকিছু এই চক্রে এমনভাবে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল যে এটি বদলানো মানে পুরো ব্যবস্থাকে নতুন করে গড়ে তোলা; যে ঝুঁকি কোনো সরকারই নিতে চায়নি। ২০১০ সালে একবার পরিবর্তনের চেষ্টা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।
তাহলে এখন কেন?
সবচেয়ে বড় কারণ আমাদের আবহাওয়া। এর সঙ্গে আছে প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরোনো সমস্যা। বর্তমান নিয়মে অর্থবছরের শেষ তিন মাস হলো এপ্রিল, মে আর জুন। ওই সময়টাই দেশে বর্ষা শুরুর সময়। রাস্তা, সেতু, ড্রেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ ঠিক তখনই সবচেয়ে ব্যাহত হয়, যখন অর্থবছর শেষ করার প্রশাসনিক তাড়া সবচেয়ে বেশি থাকে। একদিকে বৃষ্টি ও কাদা, অন্যদিকে বছর শেষের চাপ। ফলে তৈরি হয় অস্বাভাবিক তাড়াহুড়ো, অর্থনীতিতে যাকে বলা হয় ‘জুন রাশ’। সংখ্যাটা দেখলেই বিষয়টা স্পষ্ট হয়। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) মোট প্রায় এক লাখ একচল্লিশ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে একা জুন মাসেই খরচ হয়েছে প্রায় চল্লিশ হাজার কোটি টাকা; অর্থাৎ মোট খরচের আটাশ শতাংশের বেশি খরচ হয়েছে একটামাত্র মাসে!
তাহলে এখন কেন? সবচেয়ে বড় কারণ আমাদের আবহাওয়া। এর সঙ্গে আছে প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরোনো সমস্যা। বর্তমান নিয়মে অর্থবছরের শেষ তিন মাস হলো এপ্রিল, মে আর জুন। এই সময়টাই দেশে বর্ষা শুরুর সময়। রাস্তা, সেতু, ড্রেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ ঠিক তখনই সবচেয়ে ব্যাহত হয়, যখন অর্থবছর শেষ করার প্রশাসনিক তাড়া সবচেয়ে বেশি থাকে। একদিকে বৃষ্টি ও কাদা, অন্যদিকে বছর শেষের চাপ। ফলে তৈরি হয় অস্বাভাবিক তাড়াহুড়ো। অর্থনীতিতে যাকে বলা হয় ‘জুন রাশ’। সংখ্যাটা দেখলেই ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট প্রায় এক লাখ একচল্লিশ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু জুন মাসেই খরচ হয়েছে প্রায় চল্লিশ হাজার কোটি টাকা, অর্থাৎ মোট খরচের আটাশ শতাংশের বেশি একটামাত্র মাসে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- আর্থিক ব্যবস্থাপনা