You have reached your daily news limit

Please log in to continue


হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডারের বিজ্ঞান কী?

গত কয়েক বছর ধরে সারা বাংলাদেশে এই শব্দ দুটির প্রয়োগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। কখনো পাঠ্যপুস্তক, কখনো পত্রিকা কিংবা সাহিত্যিকদের গল্পে এই দুটি শব্দের সঠিক ধারণা না থাকায় নানা সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আর ওই বিতর্ক থেকে বাদ পড়েনি পাঠ্যপুস্তকও। বিভিন্ন সময় হিজড়া জনগোষ্ঠি নিয়ে সমাজের প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা বা 'মিথ' ভাঙতে গিয়ে পাঠ্যপুস্তক রচয়িতারা ভুলভাল ব্যাখ্যা দিয়ে দেশজুড়েই বিতর্ক ছড়িয়েছেন। মানুষের জীবনচক্রে ঘটে যাওয়া এসব বিষয়ে সমাজ, ধর্ম কিংবা রাষ্ট্রের আলাদা আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি থাকলেও 'বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে' হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডার বলতে আসলে কাদের বোঝানো হয়?

আমাদের দেশে অনেক সময় সেক্স এবং জেন্ডারকে একই কাতারে ফেলা হয়। কাগজে-কলমে অনেক জায়গায় সেক্স বলতে নারী-পুরুষ বোঝানো হয়, আবার জেন্ডার বা লিঙ্গ বলতেও নারী-পুরুষই বোঝায়। কিন্তু সেক্স ও জেন্ডার কি সত্যিই একই জিনিস?

যদিও জেন্ডার সেক্সের সঙ্গে সম্পর্কিত, তবে এই দুটি শব্দ কখনোই এক নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে সেক্স হলো মানুষের জৈবিক বৈশিষ্ট্য এবং জেন্ডার হলো সামাজিকভাবে গড়ে ওঠা পরিচয়। মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর শারীরিক এবং শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে সেক্স নির্ণয় বা নারী-পুরুষের পার্থক্য নির্ধারণ করা হয়। ক্রোমোজোম, জিনের বহিঃপ্রকাশ, হরমোন এবং প্রজনন অঙ্গের ধরন বিচার করে সেক্স নির্ধারিত হয়।

অন্যদিকে, সামাজিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে কে নারী বা কে পুরুষ হবে, তারা সমাজে কী ভূমিকা পালন করবে, তাদের আচার-আচরণ কেমন হবে এবং নারী-পুরুষের পারস্পরিক সম্পর্ক কেমন হবে এসব বিষয় ঘিরেই জেন্ডারের সংজ্ঞা তৈরি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সমাজভেদে জেন্ডার ভূমিকা পরিবর্তিত হয়, এমনকি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিবর্তিতও হতে পারে। এসব সামাজিক নিয়মকানুন নিয়ন্ত্রণ করে দেশটির আইন, মূল্যবোধ, ধর্ম ও শিক্ষা ব্যবস্থা। নারী-পুরুষের এই চিরচেনা কাঠামোর বাইরেও আমাদের চারপাশে বিশেষ কিছু জনগোষ্ঠি বাস করে। প্রকৃতির অন্যান্য সৃষ্টির মতোই তাদের আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। চলুন জেনে নেওয়া যাক, বিজ্ঞান এসব বিষয়কে কীভাবে ব্যাখ্যা করে।

সেক্স কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

পৃথিবীতে শত শত প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ রয়েছে। প্রজাতিভেদে সেক্স চিহ্নিত করার পদ্ধতিতে কিছুটা ভিন্নতা দেখতে পাওয়া যায়। তবে সাধারণভাবে দুটি পদ্ধতি সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত। প্রথমটি হলো জিনগত বা জিনোটাইপিক সেক্স ডিটারমিনেশন এবং দ্বিতীয়টি হলো পরিবেশগত বা এনভায়রনমেন্টাল সেক্স ডিটারমিনেশন।

জিনগত পদ্ধতিতে কোনো প্রজাতির সেক্স বোঝার জন্য তাদের ক্রোমোজোম (যার ভেতরে ডিএনএ কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকে) পর্যবেক্ষণ করা হয়। নিষেকের সময় স্ত্রীর ডিম্বাণু ও পুরুষের শুক্রাণুর মিলনে গঠিত ভ্রূণে যে সেক্স ক্রোমোজোমটি প্রকাশিত হয়, তাকে ঘিরেই লিঙ্গ নির্ধারিত হয়। আবার কিছু কিছু প্রাণী পরিবেশের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে নিজেদের সেক্স রূপান্তর করে। যেমন, কচ্ছপের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটার সময় তাপমাত্রা যদি ২৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তবে পুরুষ কচ্ছপ জন্মায়; আর তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে স্ত্রী কচ্ছপ জন্মায় (টনি গ্যাম্বল এবং অন্যান্য, সেক্স ডিটারমিনেশন (লিঙ্গ নির্ধারণ), কারেন্ট বায়োলজি, ২০১২)।

তবে মানুষের ক্ষেত্রে জিনগত পদ্ধতিটিই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। ধর্মযাজক গ্রেগর মেন্ডেলের বংশগতির তত্ত্ব প্রকাশের পর জিনগতভাবে নারী-পুরুষ নির্ধারণের বিষয়টি সামনে আসে। ১৯০০ শতকের শুরুর দিকে সেক্স নির্ধারণে ক্রোমোজোমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এডমন্ড বিচিয়ার ও নিতি মারিয়া নারী-পুরুষের সেক্স নির্ধারণে একজোড়া ক্রোমোজোমকে দায়ী করেন। তাদের এই তত্ত্ব প্রাধান্য পায় ১৯৫০-এর দশকে ডিএনএ আবিষ্কারের পর। এরপর ১৯৮০-এর দশকে ওয়াই (Y) ক্রোমোজোমের রহস্য উন্মোচিত হলে জিনগত সেক্স শনাক্তকরণের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।

সাধারণত মানুষের কোষে থাকা ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে বিশেষ একজোড়া ক্রোমোজোম সেক্স নির্ধারণ করে। নারীদের ক্ষেত্রে দুটিই অভিন্ন এক্স (X) ক্রোমোজোম থাকে, আর পুরুষদের থাকে একটি এক্স ও একটি ওয়াই ক্রোমোজোম। নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে ওয়াই ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট অংশ 'সেক্স রিজন ওয়াই' (এসআরওয়াই) জিন শনাক্ত হওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে, পুরুষদের ওয়াই ক্রোমোজোমটিই মানবদেহের সেক্স নির্ধারণের মূল অনুঘটক। এছাড়া একই প্রজাতির মধ্যে পুরুষ ও নারী শারীরিক বৈশিষ্ট্যের যে বৈচিত্র্য, তার মাধ্যমেও তাদের সহজে চেনা যায়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন