এদেশে প্রাথমিক শিক্ষা সর্বজনীন হয় না কেন?

যুগান্তর সলিমুল্লাহ খান প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৫৫

আমাদের দেশে গত একশ-দেড়শ বছরে জনশিক্ষার কিছুটা প্রসার হইয়াছে, একথা অস্বীকার করার উপায় নাই। গ্রামের লোক, কৃষক পরিবার হইতে আগত সদস্যরাও ‘আধুনিক’ শিক্ষার সুযোগ পাইয়াছেন। আপনারা জানেন, আমাদের দেশে আধুনিক শিক্ষা মানে ইংরেজি শিক্ষাই। এই শিক্ষার ভিত পাতা হইয়াছিল ব্রিটিশ শাসনের কমবেশি দুইশ বছরে।


দুঃখের মধ্যে, প্রায় একশ বছর পার হইতে চলিল, আমরা দুই দুইবার স্বাধীনতার স্বাদ পাইলাম। তাহার পর, আবার তাহার পর, আমাদের দেশে বারো বছরের বুনিয়াদি শিক্ষা স্থগিত থাকুক, এমন কি পাঁচ বছরের প্রাথমিক শিক্ষাও সর্বজনীন হয় নাই। বলা বাহুল্য আমাদের প্রতিবেশী ভারত আর পাকিস্তানও এই নিয়মের অতিক্রম নয়।


ইহার কারণ শুদ্ধমাত্র শাসক ইংরেজের স্বার্থপরতা আর সংকীর্ণ চরিত্র বিশ্লেষণে মিলিবে না। পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতিমান পণ্ডিত পরমেশ আচার্য্য এবং অন্যান্য ইতিহাস বিশেষজ্ঞ দেখাইয়াছেন বিভাগপূর্ব পরাধীন বাংলায় প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার রোধের পেছনে শুদ্ধমাত্র ব্রিটিশ সরকারের নীতি নয়, বাংলার ইতিহাসে যে শ্রেণীর পরিচয় ‘ভদ্রলোক’, তাহাদের বিরোধিতাও কম কার্যকর ছিল না। সোজা কথায়, বাংলায় প্রাথমিক শিক্ষা সর্বজনীন না হওয়ার ইতিহাস বুঝিতে হইলে এই বৈষম্যের, বা শ্রেণী সংগ্রামের কাহিনিটি মোটেও এড়াইয়া যাওয়া যাইবে না। বর্তমান নিবন্ধে আমরা এই সমস্যার আদিকল্প আলোচনা করিব।


ব্রিটিশশাসিত ভারতে জনশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য নীতি প্রথম ঘোষিত হইয়াছিল ইংরেজ-বিজয়ের কমবেশি আশি বছর পর, বড়লাট উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের আমলে, ইংরেজি ১৮৩৫ সালের মার্চ মাসে। মাত্র একটি প্রশ্নের জবাবে এই নীতি প্রণীত হইয়াছিল। প্রশ্নটা ছিল এই: সরকার অর্থব্যয় করিবেন শিক্ষার কোন ধারার পেছনে বা উপখাতে: দেশীয় সনাতন বিদ্যার পেছনে, নাকি এয়ুরোপীয় বিজ্ঞানচর্চার খাতে?


এই প্রশ্নের জের আমরা আজিকালি যাহাকে বলিলেন প্রাথমিক শিক্ষা, সেই শিক্ষা পর্যন্ত পৌঁছায় নাই। ১৮৩৫ সালের নীতিনির্ধারকেরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছিলেন শিক্ষাখাতে যতটুকু অর্থ বার্ষিক বরাদ্দ হইবে, তাহা ব্যয় করা হইবে অন্যত্র নয়, শুদ্ধমাত্র ইংরেজি ভাষার মধ্যস্থতায় এয়ুরোপীয় বিজ্ঞানচর্চার পেছনে।


এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে যে শিক্ষাব্যবস্থা কায়েমমোকাম আছে, তাহার ভিত্তি ১৮৩৫ সালের ৭ মার্চ নাগাদ প্রচারিত এই নীতি।


এই নীতিটা স্থির করার আগে ভারতে প্রতিষ্ঠিত ব্রিটিশ নীতিনির্ধারকমহল দীর্ঘদিন ধরিয়া একটা বিতর্কে লিপ্ত ছিলেন। বিতর্কের দুর্বল পক্ষ চাহিতেন ব্রিটিশ সরকার যুগপদ সনাতন দেশীয় শিক্ষার (মানে সংস্কৃত, আরবি ও ফারসি প্রভৃতি ভাষায় প্রচলিত জ্ঞানচর্চার) এবং এয়ুরোপীয় বিজ্ঞানচর্চার পেছনে অর্থব্যয় করুন। ঐদিকে সবল পক্ষের চাহিদা ছিল শুদ্ধমাত্র ইংরেজি ভাষার মধ্যস্থতায় এয়ুরোপীয় বিজ্ঞানচর্চার বিস্তার। যে পথে এই বিতর্কের নিষ্পত্তি হইয়াছিল, তাহাতে যাঁহারা সবল, তাঁহারা অর্থাৎ ইংরেজি পক্ষ জয়লাভ করিয়াছিলেন। বোঝা গিয়াছিল দেশীয় প্রজাসাধারণের শিক্ষাদীক্ষার প্রশ্নে শাসকশ্রেণীর দৃষ্টিভঙ্গি ততদিনে (১৮১৩-১৮৩৫) বদলাইয়া যাইতেছিল।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও