এম. সেলিম উজ্জামান
বাংলাদেশে ডেঙ্গু এখন আর শুধু একটি মৌসুমি রোগ নয়; এটি জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশগত অবনতি, মানব আচরণের পরিবর্তন এবং দুর্বল মশক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সমন্বয়ে সৃষ্ট একটি জটিল জনস্বাস্থ্য সংকট। গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে, প্রচলিত পদ্ধতিতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ফলে ডেঙ্গুকে শুধু স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা হিসাবে দেখলে চলবে না; এটিকে জাতীয় উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্য-নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসাবে বিবেচনা করতে হবে।
ডেঙ্গুর পরিবর্তিত পরিস্থিতি আমাদের সামনে একটি কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে না পারলে ভবিষ্যতে এ সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মশাবাহিত রোগের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘস্থায়ী বর্ষা, জলাবদ্ধতা, আকস্মিক বন্যা এবং আর্দ্রতা বৃদ্ধি এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।
একসময় ডেঙ্গুর প্রকোপ মূলত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে অন্য সময়েও রোগটির বিস্তার দেখা যাচ্ছে। জলবায়ুর এ পরিবর্তন শুধু মশার বংশবিস্তারই বাড়াচ্ছে না, বরং ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতাও বৃদ্ধি করছে। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জলবায়ু অভিযোজনকে অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য। আবহাওয়াভিত্তিক পূর্বাভাস, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল রোগ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
আমাদের দেশে এখনো অনেকের ধারণা, ফগিং করলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বাস্তবে এটি আংশিক এবং সাময়িক ব্যবস্থা মাত্র। এডিস মশা সাধারণত বাসাবাড়ির ভেতরে বা আশপাশে জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। সাধারণত ছাদের টব, পানির ট্যাংক, পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের পাত্র, নির্মাণাধীন ভবন এবং বিভিন্ন জলাধার এডিস মশার প্রধান প্রজননস্থল। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের মূল কৌশল হতে হবে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। সারা বছর নিয়মিত লার্ভা জরিপ, মশার ঘনত্ব নিরূপণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- ডেঙ্গুজ্বর