দেশে গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতার ৪১ শতাংশই অব্যবহৃত
দেশে গ্যাস সংকটের প্রভাব আবারও প্রকট হয়ে উঠেছে। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন সক্ষমতা কমে আসার পাশাপাশি পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় একদিকে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না, অন্যদিকে কয়লার ঘাটতিতে কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর।
বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে দীর্ঘদিনের ঘাটতি ও আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে এ সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) গত ১৮ আগস্টের তথ্য বলছে, দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলোর ১১৯টি কূপ এবং দুটি এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট বা ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) মিলিয়ে দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ক্ষমতা ৩৮৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। তবে সেখানে গ্যাস উৎপাদন হয়েছে ২২৬২ দশমিক ২ মিলিয়ন ঘনফুট। এ হিসাবে উৎপাদনযোগ্য সক্ষমতার ৪১ শতাংশই থেকে যাচ্ছে অব্যবহৃত।
যার মধ্যে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস্ কোম্পানি লিমিটেডের পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্রের ৮৫১ এমএমসিএফডির উৎপাদন ক্ষমতার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৪৭৫.১ এমএমসিএফডি। সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্রে ১৪৩ এমএমসিএফডির বিপরীতে ১৪০.৩ এমএমসিএফডি এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) আটটি গ্যাসক্ষেত্রে ১৪৫ এমএমসিএফডির বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১১১.৭ এমএমসিএফডি।
- ট্যাগ:
- ব্যবসা ও অর্থনীতি
- উৎপাদন
- গ্যাস সংকট