প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের ছয় মাস অর্থাৎ ১৮০ দিন পূর্ণ হলো। বলা যায়, সরকার তার পাঁচ বছর মেয়াদের ছয় মাস খরচ করে ফেলল। এই ছয় মাসকে পেছনে রেখে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক—সরকার মানুষের প্রত্যাশা কতখানি পূরণ করতে পেরেছে? ব্যক্তি ও সামাজিক নিরাপত্তাকে কি নিশ্চিত করা গেছে? প্রশ্ন আরও আছে, নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের সমাধান ও রাস্তাঘাটের দুর্ভোগ কি লাঘব করতে পেরেছে? জনমনে এই সব প্রশ্ন ঘুরেফিরে উচ্চারিত হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে ধারণা করা যায়, প্রধানমন্ত্রী নিজেও গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজের অগ্রগতি মূল্যায়ন করবেন। মন্ত্রিসভার সদস্যদের পারফরম্যান্স তার বিবেচনায় থাকবে।
তবে এক কথায় যদি বলতে হয়, নিরঙ্কুশ বিজয় নিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসা বিএনপি সরকার এই ছয় মাসে জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারেনি; আশা জাগানোর মতো তেমন কিছু করে দেখাতে পারেনি। সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতির যে কোনো উন্নতি হয়নি, সরকারি দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কথায় তার প্রমাণ মিলবে।
৩০ জুলাই এক অনুষ্ঠানে তিনি হতাশার সুরে বলেছেন, “কিছুই বদলায়নি। ঘুষখোর আগের মতোই ঘুষ খাচ্ছে।” পাঁচ মাসের মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতায় রাষ্ট্রযন্ত্রের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দেখতে পাননি বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। আক্ষেপ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “আগে যারা ঘুষ খেত, তারা এখন একইভাবে ফন্দি-ফিকির করছে ঘুষ খাওয়ার। ভালো কাজ আটকে দেওয়ার প্রবণতা বদলায়নি। আমি তো এবার সত্যিকার অর্থেই পরিবর্তন দেখতে চেয়েছিলাম। এখন পর্যন্ত আমাদের মধ্যে সেটা আমি দেখি না। প্রশাসনে পুরোনো সংস্কৃতি বহাল আছে।”