নগ্ন সত্য ও সত্যের পোশাকে মিথ্যা

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:১০

একটি মিথ্যা সবসময় মিথ্যার পোশাক পরে আসে না। অনেক সময় সে আসে সত্যের ভাষায়, তথ্যের সাজে, যুক্তির ভঙ্গিতে। তার হাতে থাকে কিছু সত্য ঘটনা, মুখে থাকে কিছু সঠিক পরিসংখ্যান, আর বাক্যের ভেতরে লুকিয়ে থাকে এমন এক বিকৃতি, যা শেষ পর্যন্ত সত্যকেই বিভ্রান্ত করে। আধুনিক পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক মিথ্যাগুলো তাই সরাসরি মিথ্যা নয়; তারা সত্যের পোশাক পরা মিথ্যা।


নগ্ন সত্যকে চেনা সহজ। সে অস্বস্তিকর হতে পারে, কঠিন হতে পারে, কখনো কখনো নির্মমও হতে পারে—কিন্তু তার শরীরে কোনো আবরণ থাকে না। সত্য বললে ক্ষমতাবান অস্বস্তিতে পড়তে পারেন, জনপ্রিয় ধারণা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে, নিজের ভুলও স্বীকার করতে হতে পারে। তাই মানুষ অনেক সময় সত্যকে পছন্দ করে না। সত্যের চেয়ে আরামদায়ক মিথ্যাকে বেছে নেয়।


সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন মিথ্যা নিজেকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে শেখে। আজকের পৃথিবীতে তথ্যের অভাব নেই। বরং তথ্যের অতিরিক্ত ভিড়। সংবাদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও, পডকাস্ট, ব্লগ, মন্তব্য—প্রতিমুহূর্তে মানুষের সামনে অসংখ্য বক্তব্য এসে হাজির হচ্ছে। কিন্তু তথ্যের পরিমাণ বাড়লেই সত্য বাড়ে না। বরং তথ্যের এই বিপুল ভিড়ের মধ্যে সত্যকে আড়াল করা আরও সহজ হয়ে যায়।


একটি মিথ্যা খবর হয়তো সম্পূর্ণ বানানো। সেটি যাচাই করা তুলনামূলকভাবে সহজ। কিন্তু কোনো একটি সত্য ঘটনা থেকে কিছু অংশ তুলে নিয়ে, কিছু অংশ বাদ দিয়ে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা সামাজিক উদ্দেশ্যে সাজিয়ে উপস্থাপন করা হলে তা অনেক বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। কারণ সেখানে পাঠক সত্যের কিছু অংশ দেখতে পান। আর সেই আংশিক সত্যই পুরো মিথ্যাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।


সত্যকে বিকৃত করার এই কৌশল নতুন নয়। রাজনীতির ইতিহাসে এর বহু উদাহরণ আছে। ক্ষমতাবানরা কখনো কখনো সত্যকে পুরোপুরি অস্বীকার করেন না; বরং সত্যের ব্যাখ্যাকে নিজেদের সুবিধামতো নির্মাণ করেন। একটি ঘটনা ঘটেছে—এটি সত্য। কিন্তু কেন ঘটেছে, কার দায়, তার প্রেক্ষাপট কী—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর বদলে দিলে একই ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ বহন করতে পারে।


এখানেই নগ্ন সত্য ও সত্যের পোশাকে মিথ্যার পার্থক্য। নগ্ন সত্য বলে—ঘটনা ঘটেছে। সত্যের পোশাকে মিথ্যা বলে—ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু এর অর্থ শুধু সেটিই, যা আমি বলছি। এই ‘শুধু’ শব্দটিই সবচেয়ে বিপজ্জনক।


একটি পরিসংখ্যান সত্য হতে পারে। কিন্তু সেই পরিসংখ্যান দিয়ে যদি বৃহত্তর বাস্তবতার একটি অংশকে আড়াল করা হয়, তবে তা সত্যের অপব্যবহার। একটি গবেষণার ফল সত্য হতে পারে। কিন্তু গবেষণার সীমাবদ্ধতা গোপন করে সেটিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর। একটি ছবি সত্য হতে পারে। কিন্তু ছবিটির সময়, স্থান ও প্রেক্ষাপট বদলে দিলে সেই সত্যই মিথ্যার বাহন হয়ে ওঠে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও