গাফিলতিতে বেড়েছে হাম, কার দায় কতটা
বিয়ের ১১ বছর পর সন্তানের মা হয়েছিলেন ফারজানা ইসলাম। তা-ও বহু ব্যয় করে, আইভিএফ (বিশেষ প্রজনন চিকিৎসা) পদ্ধতিতে।
ফারজানা সন্তানের নাম রেখেছিলেন ফাইয়াজ হাসান তাজিম। ফেসবুক প্রোফাইলে নিজের নাম দিয়েছিলেন ‘তাজিমের আম্মু’।
হামে আক্রান্ত হয়ে গত ২২ এপ্রিল মারা যায় তাজিম। বয়স হয়েছিল ৮ মাস ১৮ দিন। হাম ও হামের উপসর্গে গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত তাজিমের মতো ৮৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের প্রায় সবাই শিশু।
দেশে বহু বছর ধরে হাম নিয়ন্ত্রণেই ছিল। হামে শিশুর মৃত্যু হয়েছে—এমন খবর ছিল বিরল। এ বছর কেন বিপর্যয় তৈরি করল, দায় কাদের, তা নিয়ে তিন মাস ধরে অনুসন্ধান করেছে প্রথম আলো। সরকারের নথিপত্র সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেছে গাফিলতির কারণে।
হামের ঝুঁকিকে অগ্রাধিকার না দেওয়া, টাইফয়েডের টিকাদান কর্মসূচির জন্য হাম-রুবেলার ক্যাম্পেইন বারবার পেছানো, কয়েক বছর ধরে প্রয়োজনের তুলনায় কম টিকা কেনা এবং ঝুঁকির তথ্য যথাসময়ে বিশ্লেষণ না করার মধ্য দিয়ে সংকটটি ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে।
এ ব্যর্থতার দায় কোনো একটি সরকার বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফের সমন্বয়হীনতা, ভুল অগ্রাধিকার ও প্রশাসনিক জটিলতা পরিস্থিতিকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
- ট্যাগ:
- স্বাস্থ্য
- শিশুর মৃত্যু
- হাম রোগ