খাদ্যে অদৃশ্য প্লাস্টিক: আমরা কি নতুন জনস্বাস্থ্য সংকটের মুখে?

জাগো নিউজ ২৪ ড. মতিউর রহমান প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৭

প্লাস্টিক একসময় আধুনিকতার প্রতীক ছিল। হালকা, সস্তা, টেকসই এবং বহুমুখী হওয়ায় এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন, শিল্প, কৃষি, চিকিৎসা, খাদ্য সংরক্ষণ ও যোগাযোগব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটিয়েছে। কিন্তু প্লাস্টিকের যে বৈশিষ্ট্য একে অর্থনৈতিকভাবে এত লাভজনক করেছে, সেই দীর্ঘস্থায়িত্বই আজ পৃথিবীর জন্য বড় বিপদ হয়ে উঠেছে। প্লাস্টিক প্রকৃতিতে সহজে পচে যায় না; বরং সূর্যের আলো, তাপ, ঘর্ষণ, ঢেউ এবং পরিবেশগত ক্ষয়ের ফলে ক্রমে ক্ষুদ্র কণায় ভেঙে যায়। এই ক্ষুদ্র কণাগুলো খাদ্য, পানি ও বাতাসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। ফলে মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন আর শুধু পরিবেশ দূষণের বিষয় নয়; এটি খাদ্যনিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য এবং উন্নয়ন-শাসনের একটি ক্রমবর্ধমান সংকট।


পাঁচ মিলিমিটারের কম আকারের প্লাস্টিক কণাকে সাধারণভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতে, এসব কণা কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষুদ্র আকারে তৈরি হয়, আবার অধিকাংশ ক্ষেত্রে বড় প্লাস্টিকের বোতল, ব্যাগ, মোড়ক, জাল, পাত্র ও অন্যান্য পণ্য ভেঙে তৈরি হয়। ২০০৪ সালে যুক্তরাজ্যের প্লাইমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিচার্ড থম্পসন ‘সায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণার মাধ্যমে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’ ধারণাটিকে আধুনিক পরিবেশবিজ্ঞানের আলোচনায় সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। দুই দশকের মধ্যে সেই গবেষণার বিষয় আজ বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য উদ্বেগে পরিণত হয়েছে।


অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ওইসিডির ‘গ্লোবাল প্লাস্টিকস আউটলুক’ অনুযায়ী, ২০০০ সালে বিশ্বে প্লাস্টিক উৎপাদন ছিল প্রায় ২৩ কোটি ৪০ লাখ টন; ২০১৯ সালে তা বেড়ে ৪৬ কোটি টনে পৌঁছায়। একই সময়ে প্লাস্টিক বর্জ্য ১৫ কোটি ৬০ লাখ টন থেকে বেড়ে ৩৫ কোটি ৩০ লাখ টনে উন্নীত হয়। ওইসিডির হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালে উৎপন্ন প্লাস্টিক বর্জ্যের মাত্র ৯ শতাংশ কার্যকরভাবে পুনর্ব্যবহার করা হয়েছিল। অর্থাৎ প্লাস্টিক উৎপাদনের বিস্তার যত দ্রুত হয়েছে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা তত দ্রুত উন্নত হয়নি।


জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি বা ইউএনইপি সতর্ক করেছে যে, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৬০ সালের মধ্যে বিশ্বে প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ প্রায় তিন গুণ হতে পারে। এই বাস্তবতা দেখায় যে সমস্যাটি কেবল ব্যবহৃত প্লাস্টিক সংগ্রহ বা পুনর্ব্যবহারের নয়; প্লাস্টিকের উৎপাদন, ব্যবহার, নকশা এবং পুরো জীবনচক্র পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।


আজ মাইক্রোপ্লাস্টিক সমুদ্র, নদী, হ্রদ, ভূগর্ভস্থ পানি, কৃষিজমি, বৃষ্টির পানি এবং বায়ুমণ্ডলে পাওয়া যাচ্ছে। গবেষণায় আর্কটিকের বরফ ও দূরবর্তী অঞ্চলেও এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা বাতাসে ভেসে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে যেতে পারে। ফলে এটি কোনো একটি দেশ বা শহরের সীমাবদ্ধ সমস্যা নয়; এটি বৈশ্বিক পরিবেশব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়া এক ধরনের অদৃশ্য দূষণ।


সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই দূষণ এখন খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করেছে। আন্তর্জাতিক গবেষণায় মাছ, সামুদ্রিক খাদ্য, লবণ, মধু, চিনি, পানীয় জল এবং নানা খাদ্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। গবেষণা পর্যালোচনায় দেখা যায়, খাদ্য গ্রহণের পাশাপাশি বাতাসের সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিক শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে।


মানুষের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। রক্ত, ফুসফুস, প্লাসেন্টা, হৃদ্রক্তনালি এবং অন্যান্য মানব টিস্যুতে প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। স্ট্যানফোর্ড মেডিসিনের বিজ্ঞানভিত্তিক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, প্রাণী ও মানবকোষে পরিচালিত গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের সঙ্গে প্রদাহ, প্রজনন সমস্যা, হৃদ্রোগ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্ভাব্য সম্পর্ক দেখা গেছে। তবে এসব সম্পর্কের কারণ-ফল নির্ধারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যপ্রভাব সম্পর্কে আরও বড় ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও