ভারতে যেভাবে গণতন্ত্র থেকে স্বৈরতন্ত্রের উত্থান ঘটল

যুগান্তর এলাহী নেওয়াজ খান প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৬

কীভাবে একটি দেশ দীর্ঘ গণতান্ত্রিক পথপরিক্রমার পর স্বৈরতন্ত্রে উপনীত হতে পারে, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে বর্তমান ভারত। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট দেশটি যখন স্বাধীন হয়, তখন পশ্চিমা বিশ্বের অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের ধারণা ছিল, বহু জাত-পাত, ধর্মে, বর্ণে ও ভাষায় বিভক্ত ভারত কখনোই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে উঠতে পারবে না; কিন্তু তাদের এ চিন্তাকে মিথ্যা প্রমাণ করে দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু ভারতকে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তুলেছিলেন।


ভারতের গণতন্ত্রের ওপর প্রথম আঘাত আসে ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দেশব্যাপী জরুরি আইন জারি করেন। এটি ছিল ভারতের গণতন্ত্রের জন্য প্রথম বড় ধাক্কা। জরুরি আইন জারির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কনিষ্ঠপুত্র সঞ্জয় গান্ধীর চরম পর্যায়ের বাড়াবাড়ি ভারতের গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলেছিল।


এ পটভূমিতে ১৯৭৭ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবি ঘটে। মোরারজী দেশাই, জয়প্রকাশ নারায়ণ ও চরণ সিংহের মতো শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সম্মিলিত নেতৃত্বে গঠিত জনতা মঞ্চ বা জনতা পার্টি ওই নির্বাচনে ৫৪২টি আসনের মধ্যে ৩৪৫টি আসনে জয়লাভ করেছিল; আর কংগ্রেস পেয়েছিল ১৫৪টি। নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধী তার রায়বেরেলি আসনে এবং সঞ্জয় গান্ধী আমেথি আসনে বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন।


জনতা পার্টির প্রবীণ নেতা মোরারজী দেশাই প্রধানমন্ত্রী হন এবং তার নেতৃত্বে ভারতের প্রথম অকংগ্রেসীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়; কিন্তু বিপুলভাবে বিজয়ী হওয়া সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফলে জনতার পার্টি সরকার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। জনতা পার্টি ব্যর্থতার ফলে ১৯৮০ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস আবারও বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়। স্বাভাবিকভাবেই ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু ১৯৮৪ সালের জুনে স্বর্ণমন্দিরে ব্লু স্টার অপারেশনের পর শিখদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ক্ষোভের মাত্রাটা এ পর্যায়ে পৌঁছে ছিল সেনাবাহিনীর কয়েক হাজার শিখ সৈনিক বিদ্রোহ করে তাদের ব্যারাক ও রেজিমেন্ট ত্যাগ করেছিল এবং বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল।


চরম এ ক্ষোভের জের ধরে ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তার নিজ সরকারি বাসভবনে শিখ দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত হন। ভারতের এ ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায়, কংগ্রেসের দ্বৈত নীতি ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী আরএসএস, বিজেপি তথা সংঘ পরিবারের উত্থানে সহায়ক হয়েছে। আর সেটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে ১৯৯০ সালে মণ্ডল কমিশনের বিরুদ্ধে উচ্চবর্ণের হিন্দুদের ব্যাপক আন্দোলন এবং ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ভাঙার মধ্য দিয়ে। কারণ এ দুটি ঘটনার মধ্য দিয়ে উলকার গতিতে বিজেপির উত্থান শুরু হয়। আর এ পটভূমিতেই বিজেপি তার রাম জন্মভূমি আন্দোলন জোরদার করতে সক্ষম হয়। মণ্ডল কমিশনের সুপারিশে ভারতের অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির মানুষের জন্য সরকারি চাকরিতে ২৭ শতাংশ সংরক্ষণ রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। ১৯৭৯ সালে মোরারজী দেশাই নেতৃত্বাধীন জনতা পার্টি সরকারের আমলে এ কমিশনে গঠিত হয়েছিল। এ কমিশনের রিপোর্ট দীর্ঘদিন ফাইলবন্দি ছিল। ১৯৯০ সালে প্রধানমন্ত্রী ভিপি সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ফ্রন্ট সরকারের আমলে এ কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলে সারা দেশে উচ্চবর্ণের শিক্ষার্থী ও হিন্দুরা প্রচণ্ড আন্দোলন শুরু করে। ওই ঘটনা ভারতে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি একটি টার্নিং পয়েন্ট ছিল, যা ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ভাঙার মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত রূপ নেয়। এ ঘটনার পর বিজেপির রাম জন্মভূমি আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। বিগত নির্বাচনগুলোর ফলাফল পর্যালোচনা করলে বিজেপির উত্থানপর্বটা ভালোভাবে বোঝা যায়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও