ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারকে কেন শক্তিশালী করা জরুরি

প্রথম আলো সৈয়দ আব্দুল হামিদ প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ২০:৩২

একজন চিকিৎসক যখন কোনো রোগীর রোগনির্ণয় বা চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাঁর সবচেয়ে বড় নির্ভরতা থাকে রোগনির্ণয় পরীক্ষার প্রতিবেদনের ওপর।


সেই প্রতিবেদন যদি ভুল হয়, তবে ভুল রোগনির্ণয়, অনুপযুক্ত চিকিৎসা, চিকিৎসা শুরুতে বিলম্ব, অপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ব্যয়, এমনকি প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুও ঘটতে পারে।


তাই আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় রোগনির্ণয় পরীক্ষা কোনো সহায়ক সেবা নয়; এটি নিরাপদ, কার্যকর ও বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।


কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের হাজারো সরকারি ও বেসরকারি ল্যাবরেটরি বা রোগনির্ণয় পরীক্ষাগারে প্রতিদিন যে লাখো পরীক্ষা সম্পন্ন হয়, সেগুলোর ফল যে নির্ভুল, নির্ভরযোগ্য এবং সর্বত্র একই মানসম্পন্ন, তা নিশ্চিত করে কে?


একটি রোগীর রক্ত বা টিস্যুর নমুনা যদি ঢাকায় এক ধরনের ফল দেয় আর অন্য জেলায় ভিন্ন ফল দেয়, তাহলে চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত কতটা নির্ভরযোগ্য হবে?


এ প্রশ্নের উত্তর শুধু একজন রোগীর নয়; পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।


এ-জাতীয় দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যেই স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার (এনআইএলএমআরসি)। এটি দেশের সর্বোচ্চ রেফারেন্স পরীক্ষাগার।


হেমাটোলজি, প্যাথলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, মাইক্রোবায়োলজি, ভাইরোলজি, মলিকুলার বায়োলজি, রেডিওলজিসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত বিভাগ নিয়ে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানকে কেবল একটি আধুনিক রোগনির্ণয় কেন্দ্র হিসেবে নয়; বরং জাতীয় পর্যায়ে রোগনির্ণয় পরীক্ষাগারের মাননিয়ন্ত্রণ, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং অ্যাক্রেডিটেশনের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই ছিল মূল লক্ষ্য।


কিন্তু উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি এখনো তার পূর্ণাঙ্গ জাতীয় দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষমতা, জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি।


২০১০ সালে একনেকের অনুমোদন এবং ২০২০ সালে কার্যক্রম শুরু করা এনআইএলএমআরসিকে চারটি মূল ভিত্তির ওপর পরিকল্পনা করা হয়েছিল—উন্নত রোগনির্ণয়, স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণ, জৈব চিকিৎসা গবেষণা এবং পরীক্ষাগারের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ।


এর দায়িত্ব ছিল একটি জাতীয় ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, বাংলাদেশের জনগণের জন্য নিজস্ব রেফারেন্স ভ্যালু নির্ধারণ, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা চালু করা, উন্নত গবেষণা পরিচালনা এবং সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতের জন্য জাতীয় রেফারেন্স ল্যাবরেটরি হিসেবে কাজ করা।


সীমিত জনবল ও নানা প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এনআইএলএমআরসি তার সক্ষমতার উজ্জ্বল প্রমাণ দিয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন শাখায় উন্নত মানের পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করছে।


কোভিড-১৯ মহামারির সময় তারা ১৫ লাখের বেশি আরটি-পিসিআর পরীক্ষা সম্পন্ন করেছিল।


সরকারি চাকরির নিয়োগ ও পরিবহন খাতে ব্যবহৃত ডোপ টেস্টের ক্ষেত্রেও এটি দেশের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।


প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক রোগী দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে আসেন নির্ভুল ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী পরীক্ষাসেবা গ্রহণের জন্য।


রোগনির্ণয়ের বাইরেও প্রতিষ্ঠানটি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) নজরদারি, বহু–ওষুধপ্রতিরোধী জীবাণুর জিনোম সিকোয়েন্সিং, থ্যালাসেমিয়া গবেষণা, নবজাতক স্ক্রিনিং এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও