পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপদ ভবিষ্যৎ

যুগান্তর আহসান হাবিব প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৬

প্রতিবছর ৯ আগস্ট বিশ্বজুড়ে যখন ‘বিশ্ব আদিবাসী দিবস’ উদ্যাপিত হয়, তখন বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে একটি সুনির্দিষ্ট পরিভাষা, ঐতিহাসিক সত্য এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার মৌলিক প্রশ্নকে কেন্দ্র করে পুরোনো বিতর্ক নতুন করে চাঙা হয়ে ওঠে। জাতিসংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এ দিবসটির মূল উদ্দেশ্য বিশ্বের নানা প্রান্তের অনগ্রসর ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার, অনন্য সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা। তবে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম (সিএইচটি) ও সমতলে বসবাসকারী অনগ্রসর নৃ-গোষ্ঠীগুলোর পরিচয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরিভাষা ‘ইনডিজেনাস পিপলসে’র অন্ধ অনুকরণ এবং দেশীয় সাংবিধানিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করার মাধ্যমে এক ধরনের প্ররোচনামূলক রাজনৈতিক বয়ান তৈরির অপচেষ্টা প্রতিনিয়ত লক্ষ করা যায়।


বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমানায় অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম (খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান) কেবল ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটারের স্বাধীন ভূখণ্ডের এক-দশমাংশজুড়ে বিস্তৃত একটি ভৌগোলিক অঞ্চল নয়; এটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত বাংলাদেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্তিত্বের এক প্রাণকেন্দ্র। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল ও স্থানীয় পর্যায়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের অ-বাঙালি জনগোষ্ঠীকে ‘আদিবাসী’ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার যে নিরবচ্ছিন্ন বয়ান তৈরি করা হচ্ছে, তা কেবল ভাষাভিত্তিক বা নৃ-বিজ্ঞানসংক্রান্ত কোনো পরিচিতির লড়াই নয়। এর গভীরে লুকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক আইন ও সনদের ধারাকে ব্যবহার করে সুনির্দিষ্ট ভূ-খণ্ড বিচ্ছিন্নকরণের সূক্ষ্ম ভূ-রাজনৈতিক নকশা।


পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান সংকটের শেকড় অনুসন্ধানে ইতিহাস একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯০০ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠী ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০’ প্রবর্তনের মাধ্যমে পাহাড়ি অঞ্চলকে দেশের মূল ভূখণ্ড ও মূলধারার জনগোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন হিসাবে চিহ্নিত করেছিল। পাকিস্তান আমলেও এ ঔপনিবেশিক কাঠামোর কার্যকর ও স্থায়ী নিরসন সম্ভব হয়নি।


স্বাধীনতার পর, ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নকালে বাঙালি জাতীয়তাবাদের একমুখী সংজ্ঞায়ন পাহাড়ের অ-বাঙালি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মনস্তাত্ত্বিক দূরত্বকে বাড়াতে ভূমিকা রাখে। তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বে অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়ের দূরদর্শিতার অভাবে পাহাড়ে যে অসন্তোষের বীজ রোপিত হয়েছিল, তা অচিরেই সশস্ত্র রূপলাভ করে। এ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পাহাড়ে জনসংখ্যাতাত্ত্বিক ভারসাম্য আনা এবং ভূখণ্ডগত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার স্বার্থে সমতল থেকে বাঙালি বসতি স্থাপন এবং ভূমিসংস্কারের যে সাহসী উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তা বাংলাদেশের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা অক্ষুণ্ন রাখার ক্ষেত্রে একটি দূরদর্শী কৌশলগত পদক্ষেপ ছিল। সেই জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পুনর্বিন্যাসের ফলেই আজ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ অঞ্চলটি বাংলাদেশের মানচিত্রে দৃঢ়ভাবে টিকে রয়েছে।


তবে পরবর্তী সময়ে ১৯৯৭ সালে স্বাক্ষরিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি’ পাহাড়ের স্থায়ী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়। সমতলের বাঙালি সমাজ ও জাতীয় নিরাপত্তায় নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীকে কার্যত আলোচনার প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে এবং পার্শ্ববর্তী শক্তিগুলোর কৌশলগত সুবিধাকে প্রাধান্য দিয়ে সম্পাদিত এ চুক্তি পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি আনার বদলে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন ও বিচ্ছিন্নতাবাদের একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দাঁড় করিয়েছে।


আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যবহৃত ‘ইনডিজেনাস’ শব্দের বহুল চর্চা থাকলেও বাংলাদেশের সংবিধান এবং নৃতাত্ত্বিক ইতিহাস স্পষ্টভাষায় এ পরিভাষার প্রয়োগকে অগ্রহণযোগ্য প্রমাণ করে। ২০১১ সালে প্রণীত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অনুচ্ছেদ ২৩ক সংযোজন করা হয়, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে : ‘রাষ্ট্র উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।’


নৃ-বিজ্ঞান ও ইতিহাসের নিরিখে পার্বত্য চট্টগ্রাম বা বাংলাদেশের অপরাপর অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলো এ পলিমাটির আদি বাসিন্দা বা ‘আদিবাসী’ নয়। পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দী থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ও অঞ্চল-যেমন মিয়ানমার (তৎকালীন আরাকান), তিব্বত, আসাম ও ত্রিপুরা থেকে অভিবাসিত হয়ে তারা এ ভূখণ্ডে বসতি স্থাপন করেছে। পক্ষান্তরে, এ ভূখণ্ডের বাঙালি জনগোষ্ঠী হাজার হাজার বছর ধরে এ গাঙ্গেয় বদ্বীপ ও তৎসংলগ্ন ভূমিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে বসবাস করে আসছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও