৩৬ জুলাই: স্বৈরশাসক পতনের দিনপঞ্জি
বেলা দ্বিপ্রহর। দুয়ারে প্রস্তুত গাড়ি। ডেনমার্কের কোপেনহেগেন থেকে প্রবাসী পুত্র জানাল ‘তিনি উড়াল দিচ্ছেন’। আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় মুহুর্মুহু খবর হচ্ছে তিনি পালাবেন, আপাতত কোথায় তা বলা যাচ্ছে না।
সকাল থেকে শোনা যাচ্ছিল চারদিক থেকে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গত রাত আড়াইটার সময় হঠাৎ করে পরিবর্তিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ঢাকা ঘেরাওয়ের কর্মসূচিটি নির্ধারিত ছিল ৬ আগস্টের। কিন্তু তা একদিন এগিয়ে ৫ আগস্ট আনা হলো আন্দোলনকারীদের ক্যারিসমায়। দেড় দশকে দেশের অর্থনীতি, সমাজ-সংসার এমন এক সর্বগ্রাসী আত্মহননের পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে গোটা দেশ এক হয়ে তার ও তার সাঙ্গোপাঙ্গদের বিতাড়ন দাবি করা অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। এখন তিনি কখন কেন পালাবেন, সঙ্গে অর্থ নেবেন কিনা বোঝা যাচ্ছিল না। পরে জানা গেল মালপত্র-তল্পিতল্পা সব গোছানো, তোলা হলো কালো রঙের ঢাউস সি-প্লেনে। শোনা গেল প্রথমে হেলিকপ্টারে উড়বেন। পুরো জাতিকে চাণক্য পণ্ডিতের ছকে সম্মোহিত করার কারসাজিটাও সেদিন ছিল সক্রিয়। পালাবার মুহূর্তটার পরিকল্পনা ছিল নাটকীয়। নানা কল্পকাহিনীতে ঠাসা।
জুলাই আন্দোলনের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। দিনটি ছিল সোমবার। আন্দোলনকারীসহ অনেকের কাছে দিনটি ‘৩৬ জুলাই’ হিসেবে পরিচিত। মাত্র মাসখানেকের মধ্যে একটি অরাজনৈতিক আন্দোলন এভাবে রাজনৈতিক চরিত্র লাভ করবে, এটা সাধারণ মানুষের চিন্তায় ছিল না।