২১ বছরের দুদকে নজিরবিহীন শূন্যতা, হাল ধরবে কে?
প্রায় নয় দশক আগে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘প্রশ্ন’ কবিতায় লিখেছিলেন ‘আমি যে দেখেছি প্রতিকারহীন শক্তের অপরাধে, বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে’। বিচারপ্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রতা ও অবিচারের বেদনা তুলে ধরতে তিনি এই পংক্তি লিখেছিলেন বলে মনে করা হয়। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদেও আইনের আশ্রয় ও আইনানুগ বিচারপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ বিচারপ্রার্থীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
তবে দেশে একটি স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতির শিকার হওয়া বিচারপ্রার্থীরা তাদের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘ প্রায় ৫ মাস ধরে দুর্নীতি দমন কমিশন বলতে দেশে আসলে ‘কার্যত’ কিছু নেই। সংস্থাটির মূল ভিত্তি একজন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বাধীন ‘কমিশন’, সেটি গঠন করা যায়নি গত ৫ মাসেও। ফলে অভিভাবকহীন এ সংস্থা নখদন্তহীন বাঘে পরিণত হয়েছে। কোনো কাজে আসছে না।
প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ২১ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কমিশনশূন্য থাকায় দুদকের দুর্নীতি দমন কার্যক্রম একেবারেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। এতে অপরাধীরা লাই পাচ্ছে আর বিচারপ্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।